![]()
ঢাকা: দোহার উপজেলার নারিশা খালপাড় এলাকায় আগুনে পুড়ে মো. শামীম নামে এক সৌদি আরব প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্রার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শামীমের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার বাদ এশার নারিশা পশ্চিমচর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সংবাদ পেয়ে দোহার থানা পুলিশ নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন।
নিহত শামীম হোসেন(২৬) উপজেলার নারিশা খালপাড় এলাকার ইয়ানুছ বেপারীর ছেলে। গত ৫ ফেব্রুয়ারী শামীম হোসেন সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে আসেন বলে জানায় তার পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে শামীম ভালাবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের নারিশা লঞ্চঘাট এলাকার ইসমাইল কারালের মেয়ে ফারজানা আক্তার রুনা(১৮)কে। বিয়ের পর থেকেই ফারজানা অধিকাংশ সময় তার বাবার বাড়িতে থাকতো। সেখানে থাকা অবস্থায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ফারজানা শামীমকে একতরফা তালাক দেয়। শামীমের পরিবারের লোকজন ফারজানাদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বলে জানান। কিন্তু ফারজানার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো শামীমের।
চলতি বছরের গত ৫ ফেব্রুয়ারী বুধবার শামীম সৌদি আরর থেকে ছুটিতে দেশে আসেন। এ সময়ে এয়ারপোর্টে নেমে শামীম পরিবারের লোকজনের কাছে বিদেশ থেকে আনা মালামাল পাঠিয়ে দিলেও ওইদিনই ফারজানার পছন্দমতো নতুন মোটরসাইকেল কিনে ফারজানাদের বাড়িতে যায় সে।
এরপর ৯ ফেরুয়ারী রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শশুর বাড়িতে শামীম আগুনে দগ্ধ হয়েছে এমন সংবাদ পাওয়ার পর শামীমের পরিবারের লোকজন ফারজানাদের বাড়ি থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীম গতকাল বুধাবার রাত ১০টার দিকে মারা যায়। ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শামীমের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে শামীমের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, ফারজানাকে স্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনতে এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ওদের বাড়িতে উঠেন শামীম। দিনের বেলা আমাদের বাড়িতে আসলেও রাতের বেলা সে তার শশুর বাড়িতে থাকতো।
লোকমূখে জানতে পারেন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফারজানার সাথে তার চাচাতো ভাই মাসুদ রানার সাথে পরকীয়ার সর্ম্পকের জের ধরেই আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার ভাই মৃত্যুর আগে তার ফেইসবুকে ভিডিও বার্তায় মৃত্যুর কারন সর্ম্পকে দেশবাসীকে জানিয়ে গেছেন। সেই ভিডিও সহ মোবাইলটি পুলিশ জব্দ করেছে।
নিহতের শাহাদাত হোসেন আরো জানায়,এই ঘটনায় থানায় মামলা না নিলে প্রয়োজনে আমরা আদালতে গিয়ে মামলা করবো।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ফারজানার বাড়িতে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘরে তালা দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরা জানান শামীমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে স্বপরিবারে বাড়ি ছেড়েছেন ফারজানা ও তার পরিবার।
আরেক অভিযুক্ত সরকারি পদ্মা কলেজের শিক্ষক মাসুদ রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ফারজানার বিয়ের ঘটনার পর থেকে আমাদের সাথে কারও যোগাযোগ নেই। এছাড়াও ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না বলে দাবী করেন।
এ ব্যাপারে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, শামীমের পরিবারের লোকজন থানায় অভিযোগ জানালে মামলা নেওয়া হবে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৮:২১ ৪২৮ বার পঠিত | ● ঢাকা জেলা ● দোহার ● প্রবাসী ● মৃত্যু ● হত্যা