ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » সৌদিতে বাংলাদেশির মৃত্যু স্বজনরা এখনো জানে না কবে দেশে ফিরবে মরদেহ

সৌদিতে বাংলাদেশির মৃত্যু স্বজনরা এখনো জানে না কবে দেশে ফিরবে মরদেহ


মতিউর রহমান সেলিম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫


স্বজনরা এখনো জানে না কবে দেশে ফিরবে মরদেহ

ময়মনসিংহ: সংসারের অভাব ঘুচাতে ধারকর্য করে এক নির্মাণ শ্রমিক তাঁর ছেলেকে পাঠিয়ে ছিল সৌদি আরবে। দেড় বছরের মাথায় সব স্বপ্ন যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। স্বচ্ছলতা তো দুরের কথা ঋণ পরিশোধ করার আগেই গত ৩ মার্চ দাম্মাম শহরের একটি এলাকায় গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজ করতে গিয়ে এক দুর্ঘটনায় মারা যান ময়মনসিংহের ত্রিশালের জয়দা গ্রামের কাউছার (৩০) নামে ওই যুবক। ৬ দিন আগে মৃত্যুর খবর পেলেও এখনো স্বজনরা জানেন না কবে দেশে ফিরবে কাউছারের মরদেহ। সরকারের কাছে পরিবারের আকুল আকুতি যেন দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে আনা হয় দেশে।
জানা যায়, উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী জয়দা গ্রামের বাসিন্দা নির্মাণ শ্রমিক মোতাহার আলী। ৮ ছেলে-মেয়ের জনক মোতাহার আলীর সংসারে আয়ের যোগান দিতে বড় ছেলে কাউছারও নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো। কিন্তু প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। অভাব দুর করে সংসারে একটু স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে বছর দেড়েক আগে ছেলে কাউছারকে সৌদি আরবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বাবা মোতাহার। নুন আনতে যার পান্তা ফুরায় তাকে জোগাড় করতে হয় ৬ লাখ টাকা।

আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে পাঠান সৌদি আরবে। দাম্মাম শহরের সাক্কো (ঝধপপড়) নামে একটি কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করতো সে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, গত ৩ মার্চ সোমবার স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে দাম্মাম শহরের আল হাসা জাফরা এলাকার গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজ করতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মারা যান কাউছার। তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমারই হয়নি, বাবার ওপর চেপে বসেছে ঋণের বোঝা।
তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হন প্রতিবেশী এক প্রবাসির কাছ থেকে। কিন্তু ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও ছেলের মরদেহ বাংলাদেশি কোন সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরবে, কবে ফিরবে এবিষয়ে কিছুই জানে না বাবা মোতাহার বা নিহতের স্বজনরা। অনিশ্চয়তায় দিনাদিপাত করা পরিবারের দাবি, সরকার যেনো তাদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়।

স্ত্রী জেসমিনের ভাষ্য, তিন বছর হয়েছে আমাদের বিয়ে হয়েছে। ওরে বলছিলাম, ঋণ কইরা বিদেশ যাওয়ার দরকার নাই। কোন আপদ-বিপদ হইলে মানুষ টেহা ছাড় দিতো না। ওর বিদেশ যাওয়ার আট দিন পর জন্ম হইছে মেয়েটার। এখন মেয়ের ভবিষ্যত দেখবো কে।

এবিষয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রনালয়ের অধিনস্থ ওয়েল ফেয়ার সেন্টার ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল হাসান তাহেরি বলেন, নিহতের পরিবার মরদেহ প্রাপ্তির লিখিত আবেদন করলে, আমরা তা পাঠিয়ে দেব ওয়েজ অর্নার কল্যান বোর্ডে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নেন।

সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কাউছারের স্ত্রী জেসমিন তার ১৫ মাসের কন্যাশিশুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। মেঝেতে বসে আছেন বাকরুদ্ধ বাবা। ছেলের খোঁজখবর কি জানতে চাইতেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন মোতাহার। তিনি বলেন, ‘আমার সব স্বপ্ন শেষ। এতো কষ্ট, ঋণ-কর্যা যার জন্য করলাম তাকেই আল্লাহ নিয়ে গেল। আমি এখন কি করবো। একদিকে ঋণের চাপ অন্যদিকে ছেলের বউ, নাতিন এবং আমার পরিবারের খরচ কিভাবে চালাবো সেই চিন্তা।

চাচা আতাহার আলী জানান, আমাদের পাশের বাড়ির এক চাচাতো ভাই বিদেশ থাকে। তার মাধ্যমে আমরা কাউছারের মারা যাওয়ার খবর পাই। এখনো তার চেহারাটাও দেখতে পেলাম না। কি হাল অবস্থায় আছে তাও জানিনা।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৭:৪২   ১৪৬ বার পঠিত  |