![]()
কুড়িগ্রাম: সারাটা মাস ওজা(রোজা) করলাম পান্তা খায়া। অহন আর কেউ ভিক্ষা দিবার চায় না গো বাবা। খালি শুকুরবারে কিছু টাহা পাই তা চাউল কিনতে আটে না। আনাইজ (সবজি),গোস্ত মাছ কিনবার পাই না খাবারও পাইনা। তরকারী ছাড়া নুন ভাত গলা দিয়া নামে না। কায়ও কিছু দিলে তা দিয়া ইফতার করি।আগা রাই ও শ্যাষ রাইতে ভত্তা ভাত্তি দিয়া পন্থা ভাত খায়া ওজা থাহি। স্বামী মরি গেইছে হুজুকের সমায়। সেই থাকি ভিক্ষা করি মোগোর(আমার) জীবনটাই গেল গা। মোরে জীবন চলে না তার ওপর দুইডা বিধবা মাইয়া। ভিক্ষা আর ভাতার টাহায় কি বাচন যায়। এ ভাবে চোখের জলে বুক ভিজিয়ে কথা গুলো বলছিলেন, পৌরসভার মধুপুর গ্রামের মৃত বয়জুদ্দিনে স্ত্রী আরজিনা বেওয়া(৭৫)।
আব্দুল হাকিম মৌজার মৃত ইব্রাহিম আলীর স্ত্রী ছফুরা বেওয়া (৬৫) বাড়ী ভিটা নাই ভাতাও নাই। ভিক্ষা উপর চলে। সে জানায়, মানষে ভিক্ষা দেয় না। খালি শোকেরবার ভিক্ষা করি ৩/৪ শো টেহা পাই কোন মতে চাউল কিনি তরকারী কিনবার পাই না। গোস্তা মাছ কত দিন খাই না তা মনে পড়ে না। চোখে দেখি না,শরিল চলে না। পন্থা ভাত খায়া ওজা থাকি ৫/৬ মাইল ঘাটা হাটি ভিক্ষা করি বাড়ী যায়া মরার মত হয় শরিল। সরকারী ঘর মে¤া^র দিবার চায়া ১৫০০ টেকা নিল। ঘর পাইলাম না। ভিক্ষা করি খাই কোন সাহার্য্য পাই না। কেমন করি বাচমো বাহে তোমরায় কন।
একই অবস্থা, মাঝিপাড়া গ্রামের শামছুল হকের স্ত্রী ফরজিনা বেওয়া(৬০), ধামশ্রেনী গ্রামের মৃত মফিজ কসাইয়ের স্ত্রী হাসনা বেওয়া(৫৫),জোনাই ডাঙ্গা গ্রামের বযজুদ্দিনের স্ত্রী কদভানু(৬৮), রহিমা বেগম(৫৭), আনোয়ারা বেগম(৬৩)ছরিয়া বেওয়া (৫৯)। কারো কাডোত বয়স হয় নাই। টাকা ছাড়া ভাতা হয় না। সরকার কত ইরলিপ দেয় ।কিন্ত তাদের ভাগ্যে জোটে না। তাই তাদের কিসের রোজা, কিসের ঈদ সারা বছর এক সমান বলে জানালেন তারা।
ভ্যান চালক মোকবুল হোসেন বলেন,আগে দিন হাজার টাকা কামাইতাম জিনিষ পত্রের দাম ছিল কম ভালোই চলত। এখন কামাই রোজগার খুব কম দিনে ৪০০/৫০০ টাকা কোনো মতে চাউল সবজি কিনা যায় মাছ গোস্ত কেনার টাকা হয় না। শাক,সবজি দিয়া কোন মতে চারটা ভাত খায়া রোজা করি। ঈদ গরীব মানষের জন্য নোয়ায়(নয়)।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নানা পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে,মাঠে এখন তেমন কাজ কাম নাই। শ্রম জীবি মানুষের আয় রোজগার ও কমেছে। জিনিষ পত্রের দাম বেশী মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে রোজার মধ্যে নিম্ম ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। ফলে এবার ঈদের খুশি যেন তাদের কাছে ম্লান ও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। বাজারে ও ঈদের তেমন কোন আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এস এস সেনেটারীর মালিক মো.যুবরাজ হাবিব বলেন,নুতন ইট নামছে এটা আমাদের বেচা বিক্রির মৌসুম। কিন্ত বেচা বিক্রি নাই।তাছাড়া ঈদ ও বোরো মৌসুমের আবাদ চলছে। যে বিক্রি হয় তা দিয়ে কর্মচারীর বেতন দিতে পাচ্ছি না।
উলিপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও নির্বাাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, ভিজিএফ বরাদ্ধ পেয়েছি। ইতিমধ্যে ওয়ার্ডে ওর্য়াডে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তালিকার কাজ চলছে। ওদের ওয়ার্ডে যোগাযোগ করতে বলেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্ত মো. লুৎফর রহমান বলেন,ফকির পুর্ণবাসনে বরাদ্ধ কম থাকায় বছরে ৪/৫ জনকে পুর্নবাসন করা যায়। কিন্ত জরিপ অনুযায়ী তালিকা প্রাপ্ত ফকিরের সংখ্য দেড় হাজার। যাদের পুর্নবাসন করা হয়েছে তারা পেশা ছাড়ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন,তারা যদি ভাতা না পায় আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন,আর রিলিপের ব্যাপারে আমি পৌর সভার সচিবকে বলে দিচ্ছি ওরা যেন বাদ না পড়ে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৪:১২:২৭ ১৬৮ বার পঠিত | ● উলিপুর ● কুড়িগ্রাম ● হতদরিদ্র