ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » সফল ফ্রিল্যান্সার ও নিভৃতচারী সমাজব্রতী আবদুল্লাহ আল মামুন

সফল ফ্রিল্যান্সার ও নিভৃতচারী সমাজব্রতী আবদুল্লাহ আল মামুন


গোলাম মোস্তফা,ফুলপুর ( ময়মনসিংহ )
প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫


সফল ফ্রিল্যান্সার ও নিভৃতচারী সমাজব্রতী আবদুল্লাহ আল মামুন

ময়মনসিংহ: ফুলপুরে একসময় অভাব ছিল নিত্য সঙ্গী।দারিদ্র্যকে জয় করে কীভাবে আলোর মুখ দেখবেন এ চিন্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াতো।প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করে তিনি প্রতিষ্ঠিত।

সেই আবদুল্লাহ আল মামুন এখন ফ্রিল্যান্সিং করে সফল উদ্যোক্তা রয়েছে পাউচ-কেয়ার নামের নিজের একটি প্রতিষ্ঠান।

তার পাউচ -কেয়ার ডিজিটাল মার্কেটিং কম্পানির সেবা সমূহের মধ্যে রয়েছে -অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট,ওয়েব ডিজাইন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট,এডভার্টিজমেন্ট সহ আরো অনেক কিছু।যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত রয়েছেন বাংলাদেশ,ইন্ডিয়া,পাকিস্তান,নেপালের অসংখ্য তরুন তরুণীরা।পাউচ -কেয়ার নামে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যবসা সহ গড়ে তুলেছেন বহুজাতিক ব্যবসা।

অর্থনৈতিক সংকট,জীবনের নানা প্রতিকূলতা সবকিছুকে জয় করে আজ একজন সফল উদ্যোক্তা আবদুল্লাহ আল মামুন তার প্রতিষ্ঠিত পাউচ -কেয়ার সবার কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম।তার প্রতিষ্ঠানে রয়েছে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ।তিনি এখন শত যুবকের স্বপ্ন দেখার চোখ।

বয়স মাত্র ২৫ বছর।আবদুল্লাহ আল মামুন ফুলপুর শিববাড়ি রোডের মোঃ ফারুকের ছেলে দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি জৈষ্ঠ্য।

ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্য আর কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি।শিক্ষা জীবনের তেমন বড় সুযোগ না থাকলেও হাল ছাড়েননি মামুন তার সংগ্রাম ও সাফল্য পুরো এলাকার জন্য এখন এক দারুণ উদাহরণ।

সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে কিছু মানুষ আছেন যাঁরা গড়ে উঠেন সমাজের প্রয়োজনেই।কাজ করেন যাঁরা সমাজ বিনির্মাণের জন্য।কিছু মানুষ এই সমাজের ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করেন,তবে তা নীরবে নিভৃতে।এমনই একজন মানুষ আবদুল্লাহ আল মামুন আত্মপ্রচার নয়,আত্মতৃপ্তিই যাঁর মূল উদ্দেশ্য।বর্তমানের তথাকথিত সমাজসেবকদের কাছে তিনি এক অনুপম আদর্শ।

মানবতার জন্য তারুণ্যকে বিলাতে চান মামুন

মানবতার জন্য তারুণ্যকে বিলাতে চান আবদুল্লাহ আল মামুন,যেখান থেকেই খবর আসে অসহায় মানুষের কষ্টের কথা সেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাকে অবগত করেন

কোথায় কোন অসহায় এবং দরিদ্র বৃদ্ধ,অসুস্থ খাবারের কষ্ট করছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের এবং অন্যান্য মাধ্যমে জানতে পারলেই খোঁজখবর নেন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও মামাতো ভাই রাকিবুল হাসান রাশেদ এরপর খাবার নিয়ে তার বাড়িতে হাজির পাউচ -কেয়ার এর কর্মীরা।

২০২৪ এর স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ফুলপুর, শেরপুর,হালুয়াঘাট ৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা ও ২ হাজার পরিবারকে আর্থিক সহয়তা এবং শীতের সময় শীতার্তদের মধ্যে ৫ হাজার কম্বল বিতরণ করে পাউচ -কেয়ার গত দুই বছরে ১ হাজারের অধিক ব্যক্তিকে ঔষধ এবং খাবার দিয়ে সহায়তা করেছে পাউচ -কেয়ার।

এছাড়াও পাউচ -কেয়ার বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় অনুদান,জমি কিনে দেওয়া নির্মাণ এবং বৃদ্ধাশ্রম নির্মানের ও প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন।যার নির্মাণ কাজ শেষ হলে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

আমাদের সমাজের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক মেধাবী মুখ।যাঁদের অধিকাংশই চির অচেনা প্রচারবিমুখ।এসব মানুষেরা জনসমক্ষে নিজেকে জাহির করতে চান না মোটেই।আজকাল দুস্থ মানবতায় সামান্য দান করলেই বড়সড় নেতা হওয়া যায়।

অল্প কিছু দান করেই সংবাদ মাধ্যমে তা ফলাও করে ছাপানো হয়-এগুলো সত্যিকারের লোক দেখানো সমাজকর্ম,তা অচিরেই নিঃশেষ হতে বাধ্য-যার ছিঁটেফোটাও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অংশ হতে পারে না।

সত্যিকারের সমাজকর্মী তারাই-যারা মানবতার সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করে শুধুমাত্র মহাশক্তিমান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে।তারা প্রচার করে বেড়ায় না,কাউকে খোঁটা দিয়ে দানগ্রহীতাকে কষ্ট দেয় না-এটাই সত্যিকারের সমাজসেবা।

এমনি এক প্রচারবিমুখ সমাজহিতৈষী,নিভৃতচারী সমাজসেবক তরুণ উদ্যোক্তা আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের উপার্জনে মানবতার কল্যাণে সাধারণ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে মানসিক প্রশান্তি খুঁজে বেড়ান এই যুবক।

এসব করে সমালোচিত ও হয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন সমাজ হিতৈষী আর্থ মানবতার কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে ১ হাজার অসহায় নারী পুরুষকে ঈদ উপহারের শাড়ি পাঞ্জাবি উপহার দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি আলোচিত হয় তার আয়ের উৎস নিয়ে।নিন্দুকের কটু কথার তীর তাকে বিদ্ধ করলেও তবুও তিনি পিছু হটেননি।গরিব-দুঃখীদের কষ্ট তাকে ছুঁয়ে যায়।

কোনো না কোনোভাবে জনসেবার সঙ্গে জড়িত এমন কেউ নেই যে,তার নাম জানেন না।অথচ নীরবে,নিভৃতে কোনো আদিখ্যেতা ছাড়াই না পাওয়া, না খাওয়া,বঞ্চিত, শোষিত,স্বজনহারা মানুষের পাশে দাঁড়ান মামুন।

মানুষের জন্য,মানবতার জন্য নিজের তারুণ্যকে বিলিয়ে দিতে চান আবদুল্লাহ আল মামুন কেবল ডাক দিয়ে পাওয়া জরুরি সেবা-ই নয়,সব ধরনের মানবিক সেবায় জড়িয়ে আছে তার নাম।

ভবিষ্যতের ইচ্ছে কী প্রশ্নে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন ইচ্ছে আছে এই কার্যক্রম আরও অনেক দূর নিয়ে যাওয়া।সামান্য হলেও কিছু বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা।আমি হয়তো একদিন মারা যাবো। কিন্তু এই কার্যক্রম যেনো বন্ধ না হয়।সেই ব্যবস্থা করা।

মানুষের মুখে টুকরো হাসি ফোটানোর দায়িত্ব দিয়ে যাবো আমার তৈরি করা সৈনিকদের ওপর।যাতে করে মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা প্রবাহমান থাকে।

ফুলপুরের সিনিয়র সাংবাদিক হৃদি মোতালেব জানান আবদুল্লাহ আল মামুন আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে,চেষ্টা আর পরিশ্রম থাকলে কিছুই অসম্ভব নয়।তার মতো একজন সফল উদ্যোক্তা আমাদের এলাকায় সত্যিই অনুপ্রেরণার উৎস।মামুনের জীবন আমাদের শিখিয়ে দেয়- জীবন কখনোই সহজ নয়।কিন্তু কঠোর পরিশ্রম,সাহস আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কোনো বাধাই সফলতার পথে বাধা হতে পারে না। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে আবদুল্লাহ আল মামুনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।আবদুল্লাহ আল মামুন বেঁচে থাকুন মানুষের হৃদয়ে।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৪:২৬   ১৫৫২ বার পঠিত  |