![]()
সুজানগর: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। কিন্তু এই পরিবেশ বিঘ্নিত করতে কেউ কেউ চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন আ.লীগ চলে গেছে উনারা দেশের মালিক হয়ে গেছে। এজন্য সবাইকে মনে রাখতে হবে হাসিনার মতো মানুষকে এই দেশের মানুষ বিদায় করেছেন। আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই- আমাদেরকে কেউ চক্ষু রাঙিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবেন না, আমরা কারো চক্ষু রাঙানিকে পরোয়া করি না । কেউ কেউ মনে করছেন দেশে আওয়ামী স্টাইলে নির্বাচন করবেন। কিন্তু আমরা বলতে চাই বাংলাদেশে এটা আর হবে না ইনশাআল্লাহ। সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। ইউনুস সরকার নির্বাচনের যে রোডম্যাপ দিয়েছেন সেই ডেডলাইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দিতে হবে। তা না হলে এই সরকারকে আর কেউ বিশ্বাস করবে না। শনিবার (১৭ মে) অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে সুজানগর ও বেড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে স্মরণকালের বিশাল এ কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম খান আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধুমাত্র ভোট বা নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল নয় বরং আমরা আর্ত-মানবতার মুক্তি ও সমাজের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন করে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিবর্তন করতে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। জামায়াত এমন এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে মানুষে মানুষে কোন বৈষম্য বা ভেদাভেদ থাকবে না। কিন্তু অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা একাজ করেনি বরং তারা আত্মস্বার্থ, ব্যক্তিস্বার্থ, শ্রেণি স্বার্থ, গোষ্ঠী স্বার্থ, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ রক্ষা সহ রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করেছে।তাই জামায়াতকে সবসময় স্রোতের বিপরীতে কাজ করতে হয়েছে। সঙ্গত কারণেই আমরা নানাভাবে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের পথচলা অতীতে নির্বিঘœ ছিলো না। বিভিন্ন সময়ে আমাদেরকে অনেক জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। মামলা, হামলা, গণগ্রেফতার, রিমান্ড, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুপ্তহত্যা ছিলো আমাদের নিত্যসঙ্গী। এমনকি জুডিশিয়াল কিলিং-এর মাধ্যমে আমাদের শীর্ষনেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয়েছে। তবে আল্লাহ তা’য়ালার অপার মেহেরবানীতে মুহতারাম এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনো জীবিত আছেন। বিপ্লব পরবর্তী অনেক সময় পার হয়ে গেছে। তিনি এটিএম আজহারুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির জন্য সকলকে আল্লাহর তায়ালার সিজদাবনত হওয়ার আহবান জানান সকলের প্রতি। জামায়াতে ইসলামী প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি করে না বরং আমরা ময়দানে জানমালের কোরবানীর মাধ্যমে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রচলিত সকল প্রকার অনিয়মের ইতিবাচক পরিবর্তন করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন এ কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক ভাই শাহাদাতকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন। স্বজন হারিয়েছেন অনেকেই। আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আমরা মজলুম হলেও জালেম হবো না।
দ্বীন প্রতিষ্ঠাকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসাবে গ্রহণ করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগে স্থানীয় নির্বাচন দিতে হবে। এরপর জাতীয় নির্বাচন হবে। কোন সরকারের অধিনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। আমরা সুখী সমৃদ্ধশালী আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছি।এ জন্য জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। শহীদ আমীরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রথম শ্রেণির সব নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদিকেও কারাগারে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তিনি বলেন, আ.লীগের সব নেতাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এদের কোন ক্ষমা করা চলবে না। বিগত পতিত সরকার ভারতীয় দালাল ঘসেটি বেগম হাসিনা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। হাসিনার আমলের ভূয়া নির্বাচন কমিশনারদের গ্রেপ্তার করতে হবে। বিচারপতি খাইরুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে হবে। সব হত্যাকান্ডের দায় তাকে নিতে হবে।পাবনা-২ (সুজানগর ও বেড়ার আংশিক) আসনের এমপি পদপ্রার্থী জননেতা অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পাবনা-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, পাবনা-৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মো: ইকবাল হোসাইন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে পাবনা-১ আসনের এমপি পদপ্রার্থী ড. ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-৩ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক আলী আজগর, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফ্ফার খান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু সালেহ মো: আব্দুল্লাহ, এসএম সোহেল ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ডা.আব্দুল বাছেত খান ও বেড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আতাউর রহমান সরকার। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন পাবনা-২ আসনের পরিচালক শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল করিম। সঞ্চালনা করেন সুজানগর জামায়াতের সেক্রেটারি টুটুল হোসাইন বিশ্বাস। সম্মেলন শেষে পাবনার ৫টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন রফিকুল ইসলাম খান।
পরে তাদের নিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি অনুষ্ঠানস্থল থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে কর্মী সম্মেলন ঘীরে আওয়ামী সরকারের জুলুম নির্যাতনে কোনঠাসা হওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রকাশ্যে বিশাল এ সম্মেলনে সুজানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করতে দেখা যায় এবং সমাবেশকে ঘিরে সাজ সাজ রব উঠে। পৌর সদর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে যায়। আগত মেহমানদের স্বাগত জানিয়ে মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়। কর্মী সমাবেশে আসা দলটির নেতাকর্মীরা জানান,এতোদিনতো জামায়াতকে রাস্তায় দাঁড়ানো তো দুরের কথা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। প্রথম শ্রেণির সকল নেতাকে ফাঁসির নামে হত্যা করেছে। শত নির্যাতনের পরও এখন চারিদিকে জামায়াতের কথা শুনছে পাচ্ছি। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়তে আগামীতে জামায়াতকে ভালো অবস্থানে দেখতে চান তারা। এ সময় দলটির নেতাকর্মীরা আরো বলেন,বর্ণাঢ্য আয়োজন, সাজসজ্জা ও আধুনিকায়ন অনুষ্ঠান সুজানগর উপজেলা জামায়াতের ইতিহাসে কখনো হয়নি। অন্যকোন দলও এতো বড় বাজেট ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে অনুষ্ঠান করতে পারেনি।
সুজানগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পাবনা-২ (সুজানগর -বেড়ার আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন সম্মেলনটি সফল করায় দলের নেতাকর্মীসহ (সুজানগর -বেড়ার আংশিক) এলাকার সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের জন্য ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করার পাশাপাশি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে (সুজানগর -বেড়ার আংশিক) এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করাসহ অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে জানান।
আফ/আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:১২:৪০ ১১৭ বার পঠিত | ● জামায়াতে ইসলাম ● রফিকুল ইসলাম খান ● শান্তিপূর্ণ