ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » চিরকুট লিখে মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চিরকুট লিখে মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যু


আগৈলঝাড়া ( বরিশাল ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ মে ২০২৫


 

চিরকুট লিখে মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বরিশাল: ‘নিজের সাথে যুদ্ধ করে করে ক্লান্ত আমি। একটু বিশ্রাম চাই। ক্ষমা করে দিও। এত ভালবাসার প্রতিদান দিতে পারলাম না।’ এমনি একটি চিরকুট লিখে রেখে দরিদ্র মেধাবী ছাত্র বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৫০তম ব্যাচের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজীব বাড়ৈ ২২ মে নিজেই শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করেছেন। ২৪মে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। বিয়টির সত্যাতা নিশ্চিত করেছেন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার ফয়জুল বাশার। সজীব বাড়ৈ বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেরা বাকাল গ্রামের দরিদ্র সুধীর বাড়ৈর ছেলে। রোববার (২৫মে) দুপুরে নিজবাড়ির শশ্মানে নিহত সজীবের অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে সজীব বাড়ৈর মৃত দেহ বাড়ীতে আসলে এলাকাবাসী ও পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। এসময় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ও তার সহপাঠীরা শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও শান্তনা না জানাতে তার বাড়ীতে আসেন।

স্থানীয়রা জানায়, সজীব রাড়ৈ দরিদ্র পরিবারে সন্তান হয়ে মেডিকেলে চান্স পেয়ে ভর্তি হওয়া ছিলো অনিশ্চিত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের
সহযেগিতায় মেডিকেলে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা চালিয়ে আসছিলো। বাবা-মা সহ এলাকাবাসীর আশা ছিলো সে একদিন বড় ডাক্তার হবে। তাদের সেই আশা পূরন হলোনা। সজীবের আর ডাক্তার হওয়া হলো না। সজীবের বাবা ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের একজন টেইলার্স। সুধীর বাড়ৈর আয়ে চলতো ছয় সদস্যের পরিবার। তিনি ব্রেন টিউমারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। নিজের চিকিৎসা ও তিন ছেলের লেখাপড়া এবং পরিবারে খরচ যোগানো তার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। মানুষের সহযোগিতায় সজীব বাড়ৈ ডাক্তারি পড়ালেখা করে আসছিলো। তার স্বপ্ন ছিলো সজীব ডাক্তার হয়ে পিতার চিকিৎসা করবে।

সজীব বাড়ৈর পিতা সুধীর বাড়ৈ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি অসুস্থ, আমার ছেলে বলতো বাবা আমি ডাক্তার হয়ে তোমার চিকিৎসা করবো। আমি (সজীব) আমার গ্রামের মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করবো। তার অনেক স্বপ্ন ছিলো গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার। সে আমাদের ছেলে অনেক দুরে চলে গেছে। তাকে আর কোন দিন পাবোনা। আমরা এখন কি আশা নিয়ে বাঁচবো!

সজীবের প্রতিবেশী জয় হালদার, স্বপন বাড়ৈ, রতন হালদার, বলেন, সুধীর বাড়ৈর পরিবারের তিন ছেলের মধ্যে সজীব বাড়ৈ ছিলেন মেঝ। রোববার (২৫ মে) সকালে পারিবারিক শশ্মানে মৃত সজীবের অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এসময় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৃত সজীবের রুমমেট সুমন হালদার বলেন, পড়াশুনার অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে সজিব প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তো। সে তৃতীয় বর্ষের
মাইক্রোবায়োলজিতে আটকে ছিল। তার সাথের শিক্ষার্থীরা সবাই এমবিবিএস পাশ করে ইন্টার্নশিপ করছে। ক্লাস, এক্সামে সজীব খুবই ভয় পেত।
গত ২২ মে দিবাগত রাতে সজীব ক্লোনাজিপাম ও ফ্লুক্সেটিন গুড়া করে সিরিঞ্জের মাধ্যমে শিরা দিয়ে পুশ করে। বিষয়টি আমরা টের পেয়ে তাকে
প্রথমে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

শনিবার (২৪ মে) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে সজীব বাড়ৈর মৃত্যু হয়।
সুমন হালদার আরও জানান, সজীব বাড়ৈ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৫০তম ব্যাচের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলো। মারা যাওয়ার আগে সজীব একটি চিরকুটে লিখে গেছেন, ‘নিজের সাথে যুদ্ধ করে করে ক্লান্ত আমি। একটু বিশ্রাম চাই। ক্ষমা করে দিও। এত ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারলাম না।’

রবিবার (২৫ মে) দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার ফয়জুল বাশার জানান, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে সজীব শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন। তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মুমূর্ষ অবস্থায় সজীব বাড়ৈকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিলো চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

এল/আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩০:৪০   ১৫৫ বার পঠিত  |