ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ২ জুন ২০২৫
প্রচ্ছদ » বরিশাল » সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা উজিরপুরে মানুষ

সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা উজিরপুরে মানুষ


শাকিল মাহমুদ বাচ্চু, উজিরপুর(বরিশাল)
প্রকাশ: সোমবার, ২ জুন ২০২৫


সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা উজিরপুরে মানুষ

বরিশাল: এক সময় একরের পর একর ছিলো ফসলের জমি,পাকা ছিলো বসত ভিটা, পরিবার পরিজন নিয়ে সূখের সংসার ছিলো বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার নরকেলী গ্রামের সুলতান মৃধা’র সন্ধ্যা নদী তার সব তছনছ করে দিয়েছে এখন তিনি প্রায় নি:স্ব তার মত প্রতিবেশী আলাউদ্দিন মৃধার ২০ শতাংশ জমির উপর ছিলো বসত বাড়ি সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গন আলাউদ্দিনের পরিবারকে পথে নামিয়েছে সব হারিয়ে আলউদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা বেগম দু’ মেয়ে নিয়ে এখন অন্যর বাড়িতে আশ্রায় নিয়েছে। দিশেহারা হয়ে ওই পরিবার টি ঘুরছেন একটু সরকারী সাহায্য’র আশায় ।

তার মত একই গ্রামের বাসিন্দ গনি মৃধা সরোয়ার মৃধা , নদী ভাঙ্গনে সব হারিয়ে অন্যত্ব চলে গেছেন এলাকা ছেড়ে। বড়াকোঠা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়াড়ের সুলাতান মৃধার পুত্র প্রবাসী বাবুল মৃধার প্রবাস জীবনের আয়ের অর্থ দিয়ে একটি পাকা ভবন নির্মান করেছেন। ১ জুন রোববার রাতে তার বসত ভবনটি মুহুর্তের মধ্যে নদীর মধ্যে চলে যায়। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন পান্নি উন্নায়ন বোর্ড কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় তার সারা জীবনের স্বপ্ন এখন নদীর গর্ভে। বড়াকোঠা ইউনিয়নের ৪ টি গ্রামের শত শত পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পরে সব হারিয়ে এখন পথের ফকির। প্রতি বছর উজিরপুর উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কেন না কোন গ্রাম ও হাট বাজার। বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সন্ধ্যা নদী তার সেই ভাঙ্গনের রুপ ধারন করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদী পারের মানুষগুলো।

ভাঙ্গন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ৪ ইউনিয়নের সাথে স্থানন্তর করা সড়ক যোগাযোগ পুন:রায় বিচ্ছিন্ন হওয়া শংকা রয়েছে। এক সময় চতলবাড়ী হাট ও বাজার ছিলো জমজমাট। ওই বাজারের শত শত ব্যাবসায়ী দোকান ঘরের পাশেই ছিলো দুটি স্কুল ,মসজিদ ,কমিনিটি ক্লিনিক শতশত বসত বাড়ি। সামনে ছিলো সড়ক তার পর শতশত একর ফসলের জমি গত কয়েক বছর ধরে অব্যহত ভাঙ্গনের কারনে অল্প সময়ের ব্যাবধানে সব কিছু নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনে সব হারিয়ে নি:স্ব হয়েছে বহু পরিবার আবার অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্ব এমন কথা জানিয়েছেন ওই এলাকার শত শত মানুষ।

চতলবাড়ীর স্থানীয় বাসিন্দা ইউপি সদেস্য হারুন আর রশিদ বলেন, চতলবাড়ী বাজারে আমার একটি ফামেন্সী ছিলো ওই বাজার থেকে প্রায় ১কি:মি: দুরে ছিলো নদী মূহুর্তের মধ্যেই বাজারটি বসতবাড়ীসহ ফসলের জমি গ্রাস করে নিয়েছে সন্ধ্যা নদী। গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে ভাঙ্গন সে কারনে নদী পাড়ের সাধারন মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নারকেলী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন সরকার নদী ভাঙ্গন রেধের পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করার কারনে ওই গ্রামটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। চলতি বছর নদী ভাঙ্গনের বসত ভিটা বিলীন হওয়া মায়া রানী বাড়ৈ বলেন মূহুর্তের মধ্যেই তার বসত বাড়িটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তিনি এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

গত ৩০ এপ্রিল ভাঙ্গন রোধে ব্যাবস্থা নেয়ার দাবীতে হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছেন তার পর জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে জিও ব্যাগ ফেলানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বড়াকোঠা ইউনিয়ন জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন বলেন নদী ভাঙনের কারনে ওই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম আতংকে দিন পার করছেন।

উজিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহব্বায়ক ও সন্ধ্যা নদী ভাঙ্গন রোধে আন্দলোনের শীর্ষ নেতা এস এম আলাউদ্দিন জানিয়েছেন,কয়েক বছর ধরে সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গনের কারনে সড়ক ফসলের জমি সহ উজিরপুরের বড়াকোঠা ইউনিয়নের একাংশ হারিরে গেছে উজিরপুরের মানচিত্র থেকে।

জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের উজিররপুর উপজেলা শাখা আমীর মো: আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, চলতি বছর নদী ভাঙগনের কবলে পড়া বরাকোঠা ইউনিয়নের নারকেলী গ্রামের ১০ টি পরিবারকে তারা দলের পক্ষ থেকে অর্থিক সাহায্য দিয়েছেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন,সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গনের কবলে উজিরপুরের বিভিন্ন জনপদ তিনি নদী ভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে জানিয়েছেন লিখিত ভাবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৭:৫০   ১২৭ বার পঠিত  |