ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » বিএনপির কার্যালয়ে ভিতরে পিটিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় হাসেম গ্রেপ্তার

বিএনপির কার্যালয়ে ভিতরে পিটিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় হাসেম গ্রেপ্তার


আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ আগস্ট ২০২৫


বিএনপির কার্যালয়ে ভিতরে পিটিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় হাসেম গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভিতরে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আবুল হাসেম (৪৫) নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে উপজেলা সাতগ্রাম ইউনিয়নের সাতগ্রাম এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আবুল হাসেম মাহমুদপুর ইউনিয়নের শালমদী এলাকার আহম্মদ আলীর ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হাসেম হত্যা মামলাা ৯ নাম্বার আসামী। সে হত্যাকা-ের পর থেকে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সাতগ্রাম এলাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাসেম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর হোসেনকে কাঠের টুকরা দিয়ে পেটানোর কথা স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়য়ে আর কিছু বলতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজি হননি।
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর হোসেনকে পেটানের সময় ব্যবহৃত লাঠিগুলো পুলিশ জব্দ করেছে। মামলার বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে একাধিক পুলিশ টীম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভভ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।
আড়াইহাজারে মাহমুদপুর ইউনিয়ের শালমদী বাজারে বুধবার দুপুরে বিএনপির কার্যালয়ের বকেয়া ভাড়ার চাওয়ায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য তোতা মিয়াসহ তার সমর্থিত স্থানীয় বিএনপি অনুসারীদের বিরুদ্ধে। নিহত জাহাঙ্গীর একই এলাকার মৃত তালেব আলীর ছেলে। তিনি বিএনপির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা ওই দোকানের মালিক ও ইউনিয়ন মৎসজীবি দলের সহ- সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম ৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

কান্না থামছে না জাহাঙ্গীরের পরিবারে
জাহাঙ্গীরের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সালমদী নয়াপাড়া গ্রামে। তিনি মাহমুদপুর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেনের (৫৭) সংসার। অভাবের সংসারে পড়াশোনা হয়নি তাঁর। সম্পদ বলতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ভিটেমাটি ও বাড়ির পাশের বাজারে ছোট্ট একটি দোকানঘর। সেই দোকানঘরটি গত বছরের আগস্টে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোতা মিয়া প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে বার্ষিক ১০ হাজার টাকায় দোকানঘরটি ভাড়া নিয়ে মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় গড়ে তোলেন। গতকাল বুধবার নিজের সেই দোকানের ভাড়া চাইতে গিয়ে হত্যাকা-ের শিকার হন জাহাঙ্গীর হোসেন।
জাহাঙ্গীরের বাড়িতে শুক্রবারেও প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড় জমে। জাহাঙ্গীরের বৃদ্ধ মা আয়শা বেগম পাগলপ্রায় হয়ে বিড়বিড় করছিলেন। মৃত্যু খবর শুনে বাড়িতে আসা জাহাঙ্গীরের ছোট বোন রেহানা বেগম ভাইয়ের শোকে বিলাপ করছেন। নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, জীবনে অভাব ছাড়া কখনো সুখের মুখ দেখেননি তাঁর স্বামী। অভাবের কারণে পড়াশোনার সুযোগ হয়নি। বিয়ের পর থেকে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে সংসার চালিয়েছেন।

অভাবের কারণে ছেলেমেয়েদেরও পড়াশোনা করাতে পারেননি। এর মধ্যে কয়েক বছর হলো হৃদ্রোগ আর কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর থেকে বাড়ির পাশের সালমদী বাজারে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দোকানঘরে মুদি মালামাল বেচাকেনা করেছেন। এভাবে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বছরখানেক দোকানঘরের পুঁজি দিয়ে ছোট ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে গিয়ে দালাল চক্রের কাছে প্রতারণার শিকার হন। এরপর থেকে দোকানের পুঁজি না থাকায় গত বছরের আগস্টে স্থানীয় বিএনপি নেতা তোতা মিয়ার কাছে দোকানঘরটি ভাড়া দেন।
জাহাঙ্গীরের ছেলে রাসেল মিয়া বলেন, ‘ভাড়া না দেওয়ায় গত তিন মাস ধইরা তোতা মিয়ারে দোকান ছাড়তে বলতাছিলাম। গত বুধবার সকালে আমি আর আব্বু দোকানের শাটারের কাম করাইতাছিলাম। আমি আব্বুরে রাইখা যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পরই শুনতে পারি; তোতা মেম্বারও তার লোকজন আব্বুরে পার্টি অফিসের শাটার ফালাইয়া পিটাইছি। আমি বাবার লাশ পাই হাসপাতালে।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ২১:১০:০৯   ১৩৫ বার পঠিত  |