![]()
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: নাসিনগর হাওড় বেষ্টিত উপজেলার জণগুরুত্বপূর্ণ, নাসির নগর কলেজ মোড়ে শহীদ ইমরান চত্বর হতে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর সড়কে খানাখন্দের কারনে চরম ভোগান্তির স্বীকার নাসির নগর উপজেলার মানুষ। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষের। ওই সড়কে চলাচলকারী মানুষের দূর্ভোগ হলেও বিগত সরকারের আমলে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রায় ১৮ কি. মি. এই সড়কে। এতে
নাসির নগর - মাধবপুর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, ভাঙ্গন ও খানাখন্দে ভরে গেছে। মাত্র ৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে সময় লেগেছে ২ বছরেও বেশি। এখনো শেষ হয়নি কাজ। ফলে নারী শিশু, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে আসা লোক জন, রোগীবাহী যানবাহন সহ প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
সড়কের ভয়াবহতায় ঘটছে দুর্ঘটনা। আহত হচ্ছে নারী পুরুষ শিশু সহ সব সয়সি মানুষ। নাসির নগর সদর থেকে ফুলপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কে জোড়াতালি কাজ চললেও বাকী অংশের সড়কে বেহাল অবস্থা যা যাতায়াতে অনুপযোগী।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নাসির নগর থেকে মাধবপুর সড়কের ৯ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ১৯ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। কাজের দায়িত্ব পায় হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কে ১২ ফুট থেকে ২২ ফুটে উন্নীত করার কথা থাকলেও, এরই মধ্যে ১৬ ফুট ৫ ইঞ্চি হবে পিচ ঢালাই ও দুই পাশে ৩ ফুট করে সোল্ডার।
প্রকল্পের সময় সীমা ২০২৫ সালের ২৮ মে পর্যন্ত কিন্তু এরই মধ্যে ৭ কোটি টাকা উত্তোলন করলেও কাজের তীরগতির কারণে এখনো প্রকল্পের বড় অংশের কাজ অসম্পন্ন। ফলে সড়কের, নুরপুর, পাঠানিশা, চটিপাড়া, চৈয়ারকুড়ি, জেঠাগ্রাম,ভুবন, শ্যামপুরের অংশ চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জয়নাল মিয়া বলেন, সড়কের এই নাজুক অবস্থা যে কোন গর্ভবতী মহিলা যদি এ সড়ক দিয়ে যায়, তাহলে হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মরে যাবে।
নাসির নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান প্রতিবেদককে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে এ সড়কের কাজের গাফেলতির কারণে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছি। যেখানে বেশি গর্ত চলাচলের অনুপযোগী সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাছরিন মহোদয়ের সহযোগিতায় কিছু ইটের গুঁড়া ফেলে কোন রকমভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, নাসির নগর - মাধবপুর সড়কের দুই পাশের গাছ কাটতে বন বিভাগ দেড় বছর সময় নিয়েছে।সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে অনেকেই জায়গা ছাড়তে রাজি হয়নি। যার ফলে সময় একটু বেশি নিয়েছে। এখন নতুন করে আরও ১ বছর সময় বাড়ানো হয়েছে।
এ দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাছরিন বলেন, নাসির নগর - মাধবপুর সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার জন্যে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৫:১০ ১৩৯ বার পঠিত | ● নাসিনগর ● বেহাল ● ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ● সড়ক