ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ,৫০ দিনেও খোঁজ মেলেনি কিশোরীর

স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ,৫০ দিনেও খোঁজ মেলেনি কিশোরীর


ঈশ্বরগঞ্জ,(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫


স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ,৫০ দিনেও খোঁজ মেলেনি কিশোরীর

ময়মনসিংহ: ঈশ্বরগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহৃত ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর খোঁজ মেলেনি ৫০ দিনেও। প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি, পরে মামলা — তবুও কোনো অগ্রগতি নেই তদন্তে। সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। মেয়েটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, “আমার মেয়েটা কোথায় আছে জানি না। সে বেঁচে আছে কি না তাও জানি না।”

উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের একটি গ্রামের ১২ বছরের কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো। অভিযোগ রয়েছে, একই ইউনিয়নের গোল্লাজয়পুর গ্রামের এক দশম শ্রেণির কিশোর তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। মেয়েটি বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে শুরু করেন এবং অভিযুক্ত ছেলেটিকে সরাসরি নিষেধও করেন।

কিন্তু নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৮ জুন সকাল ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে মেয়েটিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় সেই কিশোর ও তার কয়েকজন সহযোগী।

ঘটনার পরদিন ১৯ জুন মেয়েটির বাবা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে পেরে ২৬ জুলাই থানায় মামলা করেন তিনি। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। মেয়েটিকেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

মেয়েটির বাবা বলেন, “ছেলেটা আমার মেয়েকে অনেক দিন ধরে উত্ত্যক্ত করত। আমি নিষেধ করেছিলাম। তবুও আমার ছোট্ট মেয়েটাকে তুলে নিয়ে গেল। এতদিন হয়ে গেল, আমার মেয়ের কোনো খোঁজ নেই। পুলিশও কিছু করতে পারছে না। আমার স্ত্রী আর ছোট ছেলেটার কান্না আর সহ্য হয় না।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা মেয়েকে ফেরত দেয়নি, শুধু আশ্বাস দিয়েছে।

আজ দুপুরে মেয়েটির মা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েটা খুব আদরের ছিল। স্কুলে যাওয়ার সময় বলে গেল, ‘মা, ফিরে এসে খিচুড়ি খাবো’। তারপর আর আসেনি। জানি না কোথায় আছে, কী খাচ্ছে, কাঁদছে কি না। পুলিশ যদি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতো, হয়তো আমার মেয়েকে এখন পেতাম।”

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছিল, পরে আমরা তথ্য পেয়ে বুঝতে পারি মেয়েটি প্রেম করে চলে গেছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাইনি। তারা মোবাইল ফোনও ব্যবহার করছে না, ফলে অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি।”

জিডি ও মামলার তারিখের ভিন্নতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “বাদী যেভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন, সেভাবেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।”

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:২৬:৩৩   ১২৭ বার পঠিত  |