![]()
সিলেট: হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ নির্বাচনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রার্থীদের প্রচরনা ও মনোনয়ন লড়াই জমে উঠেছে। কে পাবেন বিএনপির মনোনয়ন এই আলোচনা এখন সর্বত্র। কয়েকটি দল তাদের একক প্রার্থী প্রার্থী নাম ঘোষনা করেছেন। কিন্তু বিএনপি এখনও তাদের চুড়ান্ত প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেয়নি ।
দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে দেয়ালে দেয়ালে লিখে চিকামারা হয়েছে। নির্মান করা হয়েছে গেইট ও তোড়ন। কিন্তু বৃহৎ সংগঠনবিএনপির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রার্থী প্রচারণা করছেন। তারা দলীয় ভাবে লবিং গ্রুপিং করছেন। কে পাবেন বিএনপির টিকেট বলা মুশকিল।
সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নবীগঞ্জ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ আধিপত্য বিস্তার করলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।এবার বিএনপি এবার এই আসনের দখল নিতে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে।নির্বাচনী সমীকরণে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জ- ১ আসনেরদুটি উপজেলার নবীগঞ্জ-বাহুবল। এর মধ্যে নবীগঞ্জে সবচেয়ে বেশি লন্ডন প্রবাসীরঅবস্থান। এখানে লক্ষাধিক মানুষ লন্ডনে বসবাস করেন।
ইতিমধ্যে লন্ডন প্রবাসী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শেখ সুজাত মিয়াএই আসনে আওয়ামীলীগের আমলে উপ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিটি নির্বাচনে বাহুবলের চেয়ে নবীগঞ্জে প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি থাকেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে নবীগঞ্জের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসছেন। শুধু ব্যতিক্রম ২০২৪ সলের একক নির্বাচনটি। ঐ
নির্বাচনে বাহুবলের আওয়ামীলীগের ডামি স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এবার হবিগঞ্জ-১ আসনে আগের বেশিভাগ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিজয়ী হলেও এবার পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখানে বিএনপির শক্তিশালী ঘাটি গড়ে উঠেছে।
এর মধ্যে ৪ লন্ডন প্রবাসী ১জন আমেরিকা প্রবাসী বিএনপি নেতা রয়েছেন। কে পাবেন বিএনপির টিকেট সেটাই বেশি আলোচনা হচ্ছে। এ আসনে বর্তমানে বিএনপি নিজেদের অবস্থান শক্তশালী করেছেন। বিএনপির ১০জনের মধ্যে মনোনয়ন
যুদ্ধ তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯জনের বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে একজনের বাড়ি বাহুবলে। মনেনয়ন লড়াই নিয়ে দলের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক প্রার্র্থী রয়েছেন। বিএনপি থেকে নতুন করে আলোচনায় রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ খালেদ মহসিন। হঠাৎ করে তারা আলোচনায় এসেছেন। গত
২০১৮ সালের নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে স্বাক্ষাত করেছেন, তাই তিনি আবারও ধানের শীষ নিতে পারেন এমন আলোচনা বিরাজ করছে।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১০ জনের নাম পাওয়া গেছে। মনোনয়ন দৌড়ে আছেন হবিগঞ্জ-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত
মিয়া, জোবাইয়দা রহমানের খালু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ খালেদ মহসিন, নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি তালহা চৌধুরী, শিকাগো বিএনপির সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টু, নবীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা মুশাহিদ আলম মুরাদ, সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয নেতা মুখলিছুর রহমান, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সভাপতি দেওয়ান মুকাদ্দিম চৌধুরী নিয়াজ, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা, বিএনপি নেতা শেখ মহি উদ্দিন ।
এদিকে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা করছেন বিএনপি তরুন প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা মুশাহিদ আলম মুরাদ। তাঁর ব্যানার ফেস্টুন চারিদিক ছেয়ে গেছে। নবীগঞ্জ ও বাহুবলের গুরুত্বপূর্ন স্থানে তার নামে গেইট ও তোড়ন করা হয়েছে। তরুণদের বড় একটি শক্তি তার পক্ষে প্রচারণা করছেন। মুশাহিদ আলম মুরাদ বিগত আওয়ামীলীগের আমলে সবচেয়ে বেশি মামলা হামলার শিকার হয়েছেন।
এছাড়াও প্রচারনায় রয়েছেন সদ্য দলীয় পদ স্থগিত হওয়া সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, শিকাগো বিএনপির সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টু, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি তালহা চৌধুরী এদের প্রচারণা মাঠ পর্যায়ে রয়েছে। বাকিদের নাম শোনা গেলেও তাদের ভক্তরা শুধু ফেসবুকে প্রচারণা করছেন। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে তারা মাঠে নামবেন। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২২ জন এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৭৬, নারী ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৪ এবং হিজড়া ভোটার ২জন।
মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা মুশাহিদ আলম মুরাদ বলেন, আমি বিগত ১৫ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্য়াতনে শিকার হয়েছি আমি। আমার উপর যত মামলা হয়েছে আর কারো উপর হয়নি, কেউ কেউ আন্দোলনের সময় নিরাপদ থাকার জন্য পালিয়ে বিদেশে ছিলেন তাদের ব্যাপারে দলের হাই কমান্ড সব কিছু অবগত আছেন। আমি বিস্বাসী তারেক রহমান তারুণ্যের পক্ষে জয়গান
তুলেছেন তাই আমি মনোনয়ন পাবো নিশ্চিত।
যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি তালহা চৌধুরী বলেন, আমি দলের সব কয়টি কর্মসুচীর মধ্যে সহযোগিতা করছি। তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে মাঠে কাজ করেছি। দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করেছি দল আমাকে মুল্যায়ন করবে এটাই আমার
বিস্বাস।
শেখ সুজাত মিয়া বলেন, “আমি ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি উপনির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে হারিয়েছি, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে”ছাবির আহমদ চৌধুরীর আত্মবিশ্বাস, “প্রতিকূল সময়ে রাজনীতি করেছি, হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে দুইবার মেয়র হয়েছি। মামলা-হামলা মোকাবিলা করে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আছি।”
সম্প্রতি তার দলীয় পদ পদবী স্থগিতের ব্যাপারে বলেন, আমি আশাবাদী শিগরিই এই আদেশ প্রত্যাহার করবে দল।ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করবো। তবে কোন দল থেকে নির্বাচন করবো এখন ঠিক করি নাই। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে সঠিক সিন্ধান্ত নিবো। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি বিএনপি থেকে যেহেতু ধানের শীষ নিয়ে একবার নির্বাচন করেছি, আবারও করতে কোন দ্বিধা নেই।
ডাঃ খালেদ মহসিন বলেন, আমাকে নির্বাচন করার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। এখনও চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেইনি। নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা বলেন, আমাদের বড় দল প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়া স্বাভাবিক। আমাদের দলের মনোনয়ন যে পাবেন, আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। আমি নিজেই দলীয় মনোনয়ন চাইবো।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২০:৩৬ ২৬৮ বার পঠিত | ● আসন ● নবীগঞ্জ ● মনোনয়ন ● হবিগঞ্জ-১