![]()
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: শীতের প্রথম হাওয়া বইতেই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার হাওর বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলায় জমে উঠেছে লেপ তোষক তৈরির উৎসব। সকালবেলা বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া, আর সেই সঙ্গে ধুনকরদের ব্যস্ততার টুংটাং শব্দ সব মিলিয়ে শীতের আগমনী বার্তা যেন নতুন এক কর্ম-প্রাণ চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি করেছে। দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষার পর মালির- কারীগরদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে বহুগুনে।
গত কয়েকদিন ধরে শীত একটু বাড়তেই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন হাট -বাজার সব জায়গাতেই লেপ তোষক তৈরির ধুম পড়ে গেছে। কেউ দোকানে বসে, কেউবা গ্রামের পথে পথে হাঁটাহাঁটি করে পুরনো লেপ খুলে তুলা ধুনিয়ে নতুন মতো সাজিয়ে দিচ্ছেন। ধুনকরদের হাতের টানে পুরনো লেপ তোষক যেন হয়ে উঠছে একেবারে নতুন।
বৃহস্পতিবার (২৭নভেম্বর২০২৫)সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ফান্দাউক, বুড়িশ্বর, হরিপুর, চৈয়ারকুড়ি,কুন্ডা,চাপড়তলা, ভলাকুট,চালতপাড় সহ বিভিন্ন স্থানে এখন প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা। তুলা পরিষ্কার করা, ধুনন, কাপড়ে মোড়ানো আর সেলাই সব মিলিয়ে চলছে শীতের মৌসুমী কর্মব্যস্ততা।
উপজেলার চাতলপাড় বাজারের ব্যবসায়ী হীরা মিয়া জানান,“বছরজুড়েই লেপ তোষকের কাজ করি। তবে শীতের শুরুতেই ব্যস্ততা একটু বেশি থাকে। এবার তুলা আর কাপড়ের দাম খুব বেড়েছে। লেপ তৈরি করতে কাপড় লাগছে গজপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, তোষকের কাপড় ৫৫ থেকে ১২০ টাকা। গার্মেন্টস্ তুলা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১৬০ টাকা, আর শিমুল তুলা ৪০০ টাকা। লেপ বানানোর মজুরি ৩০০-৪০০ টাকা, তোষক ২৫০-৩০০ টাকা। এত কিছুর পর আগের মতো লাভ থাকে না।”
তিনি আরও বলেন, নতুন লেপ বানানোর চেয়ে অনেকেই এখন পুরনো লেপ খুলে তুলা পরিষ্কার করে নতুন কাপড় দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন। খরচ কম পড়ায় নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই পথেই ঝুঁকছেন।
কান্দি গ্রামের সাথী বেগমের কথায়ও সেই বাস্তবতা “নতুন লেপ বানাতে অনেক টাকা লাগে। তাই পুরনো লেপটা ধুনিয়ে কিছু নতুন তুলা মিশিয়ে বানিয়ে নিলাম। এতে খরচও কম, আর কাজও বেশ ভালো হয়েছে।”
অন্যদিকে বিক্রেতাদের কাছেও দেখা মিলছে বাজারের ভিন্ন রূপ। নাসির নগর উপজেলা হরিপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোখলেছ মিয়া জানান “তুলার দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাই লেপ তোষকের দামও বাড়ছে। ফলে অনেক ক্রেতা এখন লেপের বদলে কম্বল কিনে নিচ্ছেন। বাজারে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের কম্বল পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে কিছু চায়না কম্বল তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় সেগুলোর চাহিদা বেশি।”
শীত বাড়ছে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধুনকরদের ব্যস্ততা। শীত নিবারণের প্রয়োজনীয়তা যেমন আছে, তেমনি জীবিকার লড়াইও আছে এর সঙ্গে। শীতের প্রথম প্রহরেই তাই লেপ তোষকের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে মৌসুমী রঙ, গন্ধ আর মানুষের কোলাহল যা উপজেলার শীতের এক বিশেষ দৃশ্যপট হয়ে প্রতি বছরই ফিরে আসে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৪:৫৮ ১২৪ বার পঠিত | ● কারিগররা ● নাসিরনগর ● লেপ-তোষক