ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » ঢাকা » মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহের পরিচয় নিয়ে ধোয়াশা,খোঁজ করেনি কেউ

মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহের পরিচয় নিয়ে ধোয়াশা,খোঁজ করেনি কেউ


আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫


মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ পরিচয় নিয়ে ধোয়াশা,খোঁজ করেনি কেউ


নারায়ণগঞ্জ:
আড়াইহাজারে সড়কের পাশ থেকে মাথা বিচ্ছন্ন মরদেহ উদ্ধারের একদিন পরও নিহত যুবকের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। কোন আত্মীয় স্বজন এখন পর্যন্ত নিহতের কোন সন্ধান করেনি। মর্গে পড়ে রয়েছে নিহতের মরদেহ।
পুলিশ জানায়, উপজেলার শ্রীনিবাসদী এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকালে মাথা বিচ্ছিন্ন যুবকের মরদেহ করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআই মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। প্রযুক্তিগত সহায়তায় জানতে পারা যায়, নিহত ওই ব্যক্তির নাম শহীদুল ইসলাম (৩৬)। জাতীয় পরিচয় অনুযায়ী নিহত শহীদুল ইসলাম সিলেট সদর উপজেলার হাউজিং এসেস্ট এলাকার মৃত আনোয়ার ইসলাম ও মাতা রোশনী বেগমের ছেলে। পুলিশ ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারে শহীদুল ইসলাম নামে ওই বাসায় কোন লোক বসবাস করতো না।

এরপর থেকেই নিহতের পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা। ইতিমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে পাওয়া ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে সহযোগিতার চেয়েছে পুলিশসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
আড়াইহাজার থানা প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি শাহজাহান কবির বলেন, ‘অনেক সময় অস্থায়ী ঠিকানায় দিয়েও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে থাকতে পারে। এ জন্য নিজস্ব মোবাইল নাম্বারসসহ আমার ফেসবুকেও নিহত শহীদুলের ছবি পোস্ট করে তার বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে অনুরোধ করেছি। এখন পর্যন্ত এর কোন রিপ্লাই পাওয়া যায়ানি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নিহত শহীদুলের সিলেটের ঠিকানায় যোগাযোগ করলে তার বিষয়ে কোন তথ্য মেলেনি। জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে শহীদুল কোন মোবাইলের সীমও রেজিস্ট্রেশন করা নেই। মোবাইল রেজিস্ট্রেশ করা থাকলে কললিস্ট ধরেও পরিচয় শনাক্ত ও তদন্ত কার্যক্রম করা সুবিধা হতো। এখনও নিহতের মরদেহ নারায়ণগঞ্জের মর্গে পড়ে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন থানায় ছবি পাঠিয়ে তার প্রকৃত ঠিকানার খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তার কোন আত্মীয়স্বজন খোঁজ খবর নেয়নি। তবে পুলিশ এ ব্যপারে বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমও চলছে।
থানার ওসি আরও জানান, যে এলাকায় মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ পাওয়া গেছে ওই এলাকা এবং এর আশেপাশে লোকজনকে শহীদুলের ছবি দেখানো হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের কোন যুবককে কখনও দেখেনি বলে পুলিশকে জানায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা খুনীরা পরিকল্পিতভাবে অন্য কোন স্থানে নৃশংস এই হত্যাকাÐ ঘটিয়ে প্রথমে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। পরে মাথা কোন এক স্থানে ফেলে দিয়ে এসে মাথা বিচ্ছিন্ন ছিন্নভিন্ন শরীর শ্রীনিবাসদী এলাকায় রাস্তার পাশে রাতের অন্ধকারে ফেলে রেখে চলে যায়। পুলিশ বিষয়নিটি খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

শ্রীনিবাসদী সড়কে আতঙ্ক
ভুলতা বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের বোনাফাইড মিলের কাছাকাছি দিয়ে চলে গেছে জালাকান্দি শ্রীনিবাসদী সংযোগ সড়ক। এ সংযোগ সড়কে রাত গভীর হলে ডাকাতি ছিনতাইয়ের মত বিভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। এ জন্য রাত আটার পর একাকী এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেনা। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল মিয়া জানান, ঘটনাস্থল শ্রীনিবাসদী ও এর আশপাশের এলাকাটি একটি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। প্রায়শই এলাকাটিতে চুুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা রাতে নিজেদের কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হন। এমন নৃশংস হত্যাকাÐের ঘটনায় শ্রমিকসহ এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউসুফ আলী নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমার জীবদ্দশায় দেখেননি। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। পরে এসে দেখি বিবস্ত্র অবস্থায় মাথাবিহীন একটি লাশ। শরীরটা ছিন্ন ভিন্ন। এমন নৃশংস হত্যাকাÐের ঘটনায় এলাকায় এখনও অনেকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৬:২৬   ৫৫ বার পঠিত  |