![]()
ভোলা: চরফ্যাসনে পাওনা টাকা চাওয়ায় হাসান সরদার নামের এক দিনমুজুরসহ একই পরিবারের ৫ জনকে মারধরের পর মিথ্যা মামলায় হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে নুর করিম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতেই থেমে থাকেননি ওই চক্র। নিরাপরাধ হাসান সরদারকে মাদক বিক্রেতার আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মানববন্ধন ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন নুর করিমসহ তার দলবলরা। এঘটনায় মারধরের শিকার হাসান সরদারের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আজ সোমবার বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে ভোলা সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চরফ্যাসন থানার ওসিকে নিদেশ দেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিপক্ষ করিমের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তর্কের জের ধরে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ১৭ ডিসেম্বর নুর করিম বাদী হয়ে হাসান সরদারসহ তার পরিবারের ৫ জনকে আসামী করে চরফ্যাসন থানার মারধর ও তার দোকান লুটের অভিযোগ তুলে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রাকিব নামের এক ব্যক্তি জেল হাজতে রয়েছেন বলে থানা সুত্রে জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ নুর করিম নিজেই একজন মাদক ব্যবসায়ী। ২৪ সনে পুলিশ তার বসত ঘরে অভিযান চালিয়ে তার ঘর থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেন।
হামলার শিকার হাসান সরদার জানান, নুর করিম আমার পরিচিত ও প্রতিবেশী। তার ভাই নুর মোহাম্মদ এক বছর আগে আমার কাছ থেকে বাৎসরিক ১ লক্ষ টাকা নেন। এবং বছর শেষে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের চুক্তি হয়। এবং তার ভাই নুর করিম আমার স্ত্রী আয়েশার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। বছর শেষ হলে আমার স্ত্রী নুর করিমের কাছে টাকা চাইতে গেলে আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেন এবং অশ্লীল ভাষাবাক্য করেন। কু-প্রস্তাবে রাজি হলে টাকা পরিশোধ করবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে আমার স্ত্রী বাড়ি এসে বিষয়টি আমাকে জানান। পরে আমার পাওনা টাকা আত্মসাত করতে গ্রামে দলবদ্ধ হন নুর করিমসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
ঘটনার দিন বিকালে আমি নুর করিমের বাড়ি সংলগ্ন চৌরাস্তায় গিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরন ও আমার পাওনা টাকা চাইলে নুর করিম ও তার ভাই নুর মোহাম্মদ টাকা দিতে অস্বীকার করে গালমন্দ শুরু করেন। এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেন। এনিয়ে তর্ক হয়। তর্কের জের ধরে নুর করিমসহ ১০/১২ জনের একটি চক্র তার ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন। খবর পেয়ে আমার স্ত্রী আয়েশা ও ভাতিজা রাকিবসহ স্বজনরা আমাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে দলবদ্ধ হয়ে তারা আমার পরিবারের সকল ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বজনরা আমাদের উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তারা এখন বরিশালে চিকিৎসাধীন আছেন। এতেই থেমে যাননি নুর করিমসহ তার চক্র। তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের গ্রাম ছাড়া করার জন্য তাকে মাদক কারবারী আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মারধর ও দোকান লুটের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পলাতক রয়েছেন তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
এছাড়াও নুর করিম একজন চিহিৃত মাদক কারবারী পুলিশের সাথে তার গোপন সখ্যতা রয়েছে। একারনেই সে বীর দর্পে মাদক ব্যবসাসহ গ্রামের নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। নুর করিম নিজেই একজন মাদক ব্যবসায়ী ২৪ সনে পুলিশ তার বসত ঘরে অভিযান চালিয়ে তার ঘর থেকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ তার স্ত্রী পিয়ারাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছেন। ওই মামলায় নুর করিম নিজেও আসামী রয়েছেন।
অভিযুক্ত নুর করিম জানান, হাসান খারাপ মানুষ। সে আমার ওপর হামলা করে আমার দোকান লুট করেছেন।
চরফ্যাসন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, এঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে আইনি ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১২:৪০:২৫ ৪৫২ বার পঠিত | ● চরফ্যাসন ● মামলা ● মিথ্যা ● হয়রানী