ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রচ্ছদ » খুলনা » মধুমতীর আকস্মিক ভাঙনে কেড়ে নিলো আশ্রয়স্থল

মধুমতীর আকস্মিক ভাঙনে কেড়ে নিলো আশ্রয়স্থল


মহম্মদপুর,( মাগুরা ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫


 মধুমতীর আকস্মিক ভাঙনে কেড়ে নিলো আশ্রয়স্থল
মাগুরা:  মহম্মদপুর উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে অসময়ের মধুমতী নদীর আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে দরিদ্র-অসহায় আলামিন মোল্যা ও খোকন মোল্যার সাজানো সংসার। গত সোমবার রাতের সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত কেড়ে নিয়েছে দুই পরিবারের ৮ সদস্যের শেষ আশ্রয়স্থল।
উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে অসময়ে মধুমতীর ভাঙনের ঘটনায় নদীপাড়ে বসবাসরত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই রাতে ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মোল্যার ছেলে আলামিন মোল্যা ও খোকন মোল্যার বসতবাড়িতে হানা দেয় মধুমতী। হঠাৎ মাটির ধ্বসে যাওয়া ও বিকট শব্দে শিরিনা বেগম আতকে ওঠেন। চোখের সামনে নিজের চিরচেনা আঙিনা মধুমতি গিলে ফেলার সেই দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে গ্রামের সাধারণ মানুষ ছুটে আসেন।

গ্রামবাসীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ঘর-বাড়িগুলো ভেঙে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও বাড়ির আঙিণার বশে কয়েকটি বড় বড় গাছ মুহুর্তেও মধ্যে নদীগর্ভে বিলীণ হয়ে যায়।
আলামিন মোল্যা এবং খোকন মোল্যার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৮ জন। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দরিদ্র পরিবার দুইটির ভেঙে ফেলা ঘরবাড়ি পাঁশেই সরিয়ে রাখা হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বর্তমানে ৮ সদস্য পাঁশের বাড়ির একটি ছোট্ট জায়গাতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ আশামিন মোল্যার মা’ শিরিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ঘর বানানোর মতো যায়গা বা সামর্থ আমাদের নেই। স্থানীয় মিলন মিয়া বলেন, ‘পরিবার দুইটি খুবই অসহায়। ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা পাগল প্রায়।’
জানাযায়, পরিবার দুইটি বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে দিন অতিবাহিত করছে। শুধু থাকার জায়গাই নয়, দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগাড় করাও এখন তাদের জন্য কষ্টোকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় আরও বেশকিছু বাড়িঘর মধুমতি নদীর ভাঙনের মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে ইউএনও মুহ: শাহনুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের সার্বিক সহযোগিতা করতে আশ^স্থ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ: শাহনুর জামান বলেন, ‘অসহায় পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে আশ্রায়ন প্রকল্পে থাকার ব্যাবস্থার পাশাপাঁশি পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:০১:৪৫   ৫৩ বার পঠিত  |