![]()
কুড়িগ্রাম: যান ও যন্ত্র সব আছে চালক নেই। ব্যবহার হচ্ছে না অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে শত কোটি টাকার যান ও যন্ত্র। চরম জনবল সংকটে ধুকে ধুকে চলছে প্রথম শ্রেনীর উলিপুর পৌরসভা। মেয়র ও প্রধান নির্বাহী না থাকায় ষ্টাফদের মধ্যে নেই চেন অব কমান্ড। অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব আয়য়ের খাত গুলো স্থবির। কর আহোরন শুনের কোঠায়। ফলে প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। যেন হাওয়ার উপরে চলছে প্রতিষ্টানটি। নাগরিরিক সাটিফিকেট ও জন্ম নিবন্ধন সাটিফিকেট পেতে ঘুরতে হয় সপ্তাহের পর সপ্তাহ।এমন চরম দুর্ভোগে পড়েছে পৌরবাসি। পৌরসভার চত্বর দেখলে মনে হবে এটা যেন গাড়ীর গ্যারেজ।
উলিপুর পৌরসভা ১৯৯৮ সালে গঠিত হয়। ২৭.৩৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে। পৌরসভাটি ২০২২ সালে প্রথম শ্রেনীতে উন্নিত হয়। সেবা নিশ্চিতে সব ধরনের যান ও যন্ত্রপাতি প্রদান করা হলেও চালকসহ মজুরীকৃত জনবল না দেওয়ায় নুন্নতম সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভাটিতে নির্বাহী প্রকৌশলী ও একজন উপসহকারী প্রকৌশলী ছাড়া কোন কর্মকর্তা নেই।
জানা গেছে, প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার মন্জুরীকৃতপদ ১৬২জন। তার মধ্যে কর্মরত আছে মাত্র ৩৭ জন। শুন্য পদ রয়েছে ১২৫ জন। এর মধ্যে প্রশাসনিক বিভাগে ৬৫ জন, কর্মরত ২০ জন। প্রকৌশল শাখার পদ ৭০ জন, কর্মরত ১২ জন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ২৭ জন, কর্মরত ৫ জন। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগে কোন কর্মসুচী শুরু করতে পারেনি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনেটারি পরিদর্শক,সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী.একাউন্ট কর্মকর্তা ৫ জন সহ ২০ কর্মকর্তার পদ দীর্ঘ দিন ধরে শুন্য রয়েছে।
এছাড়া ১৪ জন ড্রাইভারের পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র ৩জন। ১১ জন ড্রাইভারের পদ শুন্য বহুুকাল থেকে। ফলে গার্ভেজ ট্রাক ৬টি, ভেকুয়াম ক্লিনার ২টি, রোড রোলার ৪টি, ভ্যাকু ১টি,থ্রি হুইলার ৫টি ড্রাইরেরের অভাবে অযত্নে পড়ে থেকে প্রায় শত কোটি টাকার যান ও যন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। এদিকে, ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ বছর আগে নির্মিত ৪ তলা মার্কেটটির ১ টি দোকান ঘর ও লীজ দিতে পারেনি।
উলিপুর হাটটি ও ডাক হয়নি চলছে খাঁস আদায়। এ অবস্থায় আয়ের প্রায় সব খাত স্থবির হয়ে যাওয়ায় রাজস্ব আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে গেছে । উন্নয়ন মুলক রাস্তার কাজ দেখা শুুনা করছেন পিয়ন দিয়ে। ফলে রাস্তার কাজ হচ্ছে অতি নিম্ম মানের। অপরিচ্ছন্ন ও ভাঙ্গা রাস্তা ঘাট,পয়ঃবর্জ নিঃস্কাশনেরর ড্রেনের নাজুক অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ময়লা আবজনা ভেসে আসে। মশা নিধনে ফকার মেশিন ও বরাদ্ধ থাকলেও ঔষধ ছিটানো হয় না। তার উপর অসহনিয় যানজট নাগরিক জীবন যেন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। নাগরিকদের দাবী সেবা নাই কর কেন দিব।
৪নং ওয়াডের বাসিন্দা,অছির উদ্দিন বলেন,ছেলের জন্ম নিবন্ধন করতে দিয়েছি আজ প্রায় ২ সপ্তাহ হয় পাচ্ছি না। সংসারের কাজ ফেলে অফিস আসি আর ঘুরে যাই। পৌরসভার কোন সেবা নাই। এটা কেমন পৌরসভা বুঝি না।
বনিক সমিতির ভারঃ সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন চাঁদ বলেন, সেবা নাই,পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার,জননিরাপর্ত্তার, যানজট নুন্নতম প্রথম শ্রেনী তো দুরের কথা,৩য় শ্রেনীর সেবাও পাওয়া যাচ্ছে না। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনীর হয়ে শুধূ করের বোঝা বেড়েছে, সেবা বাড়েনি। জনপ্রতিনিধি ছাড়া এ সব প্রতিষ্টান চলে না।
শাটলিপিকারক মো. জোবায়ের সুমন বলেন, নিজের দায়িত্ব ও জন্ম নিবন্ধনের কাজসহ ৪টি দায়িত্ব পালন করছি। কর্মকর্তা না থাকায় সময়মত মানুষকে সেবা দিতে পারি না। প্রতি দিন রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তবু ও মানুষের গালি খেতে হয়।
অফিস সহায়ক মোছাঃ আফছানা লায়লা বলেন, আমাকে নাগরিক সাটিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সারা দিন কাজ করতে হয়। মানুষের অনেক চাপ। কর্মকর্তার স্বাক্ষর করতে দেরী হয় সময় মত সেবা দিতে পারি না। আমি মহিলা মানুষ এত চাপ নিতে পারি না। দায়িত্ব ছেড়ে দিতে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করি। কিন্ত আমাকে ছেড়ে দিচ্ছে না। দায়িত্ব নিয়ে মহা বিপদে পড়েছি।
করনিধারক মো. মতিয়ার রহমান বলেন,কর আদায়ের বিষয়ে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করনের ব্যবস্থাসহ নুতন কৌশল অবলম্বন করে কর প্রদানে নাগরিকদের উৎসাহিত করতে পারলে ভাল ফলাফল পাওয়া সম্ভব। লোকবলের অভাবে ১৪-১৫ ভাগ কর আদায় হচ্ছে।
এন/ আর
নিবার্হী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,আমি একাই আর কত কাজ করব, দুটি দায়িত্ব পালন করছি। লোকবলের অভাবে রাজস্ব আয় কমেছে। মানুষের সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পৌর প্রশাসক ও নিবার্হী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন,জনবল সংকট ভয়াবহ তার পরও আমার কাছে যে সমস্থ কাজ আসে আমি সাথে সাথে করে দেই। প্রধান নির্বাহী না থাকায় বেশী সমস্যা হচ্ছে। তবে যোগাযোগ করা হচ্ছে লোকবলের জন্য।
এন/ আর