![]()
মাগুরা: কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো শীতের সকাল। সেই সাথে বাতাসে বেড়েছে শীতের মাত্রা । প্রকৃতির প্রতিকূলতা থেকে বাঁচতে উষ্ণতা ও আশ্রয়ের খোাঁজে এখানে এসেছে দূরান্তের অতিথি পাখি। অতিথি পাখির কলকাকলি ও অবাধ বিচরণে মূখরিত হয়ে উঠেছে মাগুরার মহম্মদপুরের ঘোপ বাঁওড়। পরিনত হয়েছে অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে। অতিথিদের ঘুম ভাঙানি কলরবে ভোরের কম্বল জড়ানো ঘুম ভাঙছে ঘোপ বাওড়বাসীর। প্রতিদিনই দুরাগত প্রকৃতি প্রেমিরা পাখি মেলার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন এখানে।
ষড়ঋতুর আবর্তে শীতের বারতা এলেই পরিযায়ী তথা অতিথি পাখির আগমন ঘটে এখানে। এ সময়টাতে মেরু অঞ্চল, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, এশিয়ার কিছু অঞ্চল ও হিমালয়ের আশপাশের এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত বরফ পড়ার কারণে তুলনামূলক কম শীতের বাংলাদেশে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রায়ের আশায় চলে আসে অতিথি পাখিরা। এ সময় বাংলাদেশের হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল মুখরিত হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে।
তবে এ পরিযায়ী পাখিরা দেশের সব স্থানে আসে না। খাদ্যের যেমন প্রাচুর্য রয়েছে, তেমনি জলাশয় ও বিশালাকার জলাভূমি এলাকাগুলো বেছে নেয় এরা। আর এমন অনুকূল পরিবেশ-প্রতিবেশ পেয়েই পরিযায়ী পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মহম্মদপুর উপজেলার ঘোপ বাঁওড়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে মধ্যে অনেক প্রজাতির পাখি নির্দিষ্ট সময়ে শীতপ্রধান দেশ থেকে ছুটে আসে। এ অতিথি পাখি একটু উষ্ণতা ও খাবারের জন্য হাজার মাইল পথ পাড়ি দেয়। বালি হাঁস, সারস পাখি, ডুবুরী পাখিসহ নানা অতিথি পাখির সাথে দেশীয় পাখির কলকাকলিতে প্রতি বছরের এ সময় মহম্মদপুরের ঘোপ বাঁওড়ে সকলেরই নজর কাঁড়ে।
ঘোঁপ বাঁওড়ের বাসিন্দ সোরন খাঁন বলেন, শীতের শুরুতেই বাঁওড়ে অতিথি পাখির দেখা মেলে। অতিথি পাখির ঝাঁক বেধে বিচিত্র স্বরে ডাকতে ডাকতে উড়ে চলা সুন্দরতম দৃশ্যের একটিতে পরিণত হয়। যা আমাদের মুগ্ধ করে তোলে। কিন্তু সরকারিভারে এসব অতিথি পাখি নিধন বা শিকার না করার বিধান থাকলেও এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তিরা গোপনে পাখি নিধন করায় ক্রমাগত কমে যাচ্ছে পাথির সংখ্যা। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইন ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষন ও নিরাপত্তা আইনে পাখি নিধনের শাস্তি এক বছরের জেল ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের ব্যবহার না হওয়ায় অধিকাংশ শিকারি নানা কৌশলে অতিথি পাখি শিকার করা হয়।
সোমবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঝাঁক বেধে অতিথি পাখি বিচিত্র স্বরে ডাকাডাকি করছে। কিচিরমিচির শব্দে বাওড়ের পানিতে নেমে আহার শিকারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে তারা। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য দুরাগত এবং এলকার মানুষের নজর কাড়ে।
ইউএনও মুহ. শাহনুর জামান বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে বিভিন্ন মৎস ঘের,বাঁওড় ও বিলাঞ্চলের জলাশয়ে আহার যোগাতে বালিহাঁস,পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এসব পাখি কোন শিকারী যেন শিকার না করতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর রয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত সেন বিশ্বাস বলেন, পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভা বর্ধনই করে না, ভারসাম্যও রক্ষা করে। পোকামাকড় খেয়ে এরা কৃষকের উপকার করে। জীব বৈচিত্র রক্ষায় অতিথি পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে তিনি সকলের সহযোগিত প্রত্যাশা করেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৮:১১ ৭৪ বার পঠিত | ● অতিথি ● ঘোপ বাঁওড় ● পাখি ● বিচরণ ● মহম্মদপুর ● মুখরিত