ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » গলাচিপায় ডুবোচরে নদীর নাব্যতায় আটকে যাচ্ছে নৌযান

গলাচিপায় ডুবোচরে নদীর নাব্যতায় আটকে যাচ্ছে নৌযান


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬


গলাচিপায় ডুবোচরে নদীর নাব্যতায় আটকে যাচ্ছে নৌযান

পটুয়াখালী: গলাচিপা উপজেলা উপকূলীয় তীরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এখানে অসংখ্য খাল ও নদী জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। তবে নদীগুলোতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় নাব্যতা কমে গিয়ে নৌযান চলাচলে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে নৌযান আটকে পড়ায় যাত্রী ও নৌযান পরিচালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ডুবোচরের কারণে নৌযানগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুটোরই অপচয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক নজরদারি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নদীগুলোর নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তারা শুকনো মৌসুমে সংকটপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গলাচিপা-রাঙ্গাবালী (মৌডুবি) রুটে চলাচলকারী মেসার্স অমি শিপিং-এর এমভি নবনীতা লঞ্চের মাস্টার মো. সাহেদ সরদার বলেন, গলাচিপার আগুনমুখা নদীর মোহনায় অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠছে। একই সঙ্গে চরপাঙ্গাসিয়া, মাঝের চর, রাঙ্গাবালীর চরনজির ও গাইয়াপাড়া এলাকায় নাব্যতা সংকট বেশি। ডুবোচরের কারণে শুকনো মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই রাত ১০টার দিকে লঞ্চ আগেভাগে পল্টুন থেকে ছাড়িয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে রাখতে হয়। তা না হলে সকাল ৭টায় ডুবোচরের কারণে মৌডুবি লঞ্চঘাট থেকে সময়মতো লঞ্চ ছাড়ানো সম্ভব হয় না। জোয়ার–ভাটার ওপর নির্ভর করে অনেক সময় ঘুরপথে যাত্রা করতে হয়।
গলাচিপা-রাঙ্গাবালী রুটের এমএল তোয়হোম-২ লঞ্চের স্টাফ মোহাম্মদ ইমাম বলেন, নদীর স্রোতের গতিপথ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কমে যেত। পাশাপাশি নিয়মিত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং কার্যক্রম চালু করা হলে নৌযান চলাচলে স্বস্তি ফিরত।
স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, গলাচিপার বিভিন্ন নদ-নদীতে নাব্যতা সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টির কারণে উপজেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট রামনাবাদ চ্যানেল প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া আগুনমুখা নদীর মোহনাও নাব্যতা সংকটে সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে।

এতে গলাচিপা-চরমন্তাজ ও উলানিয়া রুটে নৌ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চর কাজল এলাকার জিনতলা চ্যানেলটি ইতোমধ্যে পলি জমে সিল্টেড হয়ে গেছে। ফলে ছোট-বড় লঞ্চ ও ট্রলার প্রায়ই ডুবোচরে আটকে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অন্য রুটগুলোতেও পানি মেপে মেপে নৌযান চালাতে হচ্ছে, যা নৌ চলাচলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা নৌ বন্দরের সহকারী পরিচালক ও সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার বলেন, প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সে অনুযায়ী চলতি মৌসুমেও ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গলাচিপার লঞ্চঘাটসহ যেসব স্থানে সমস্যা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। বড় পরিসরের ড্রেজিংয়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৪:৫৯   ৮২ বার পঠিত  |