ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » নবীগঞ্জে ঠান্ডায় কাবু সাধারণ মানুষ,শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক মানুষ

নবীগঞ্জে ঠান্ডায় কাবু সাধারণ মানুষ,শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক মানুষ


এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬


 নবীগঞ্জে ঠান্ডায় কাবু সাধারণ মানুষ,শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক মানুষ
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে মানুষ। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা ও দিনের বেলায় সূর্যের অনুপস্থিতি জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। রবিবার পর্যন্ত নবীগঞ্জ হাসপাতালে ঠান্ডা জনিত রোগে চিকিৎসা নিয়েছেন শতাধিক রোগি। এখনও ভর্তি আছেন শতাধিক শিশু কিশোর ও বৃদ্ধ । হাসপাতালে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগিরা।
নবীগঞ্জের সরকারি ও বেসরকারি ১০টি হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাভাবিক ভিড়। অনেক হাসপাতালে শয্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে।নবীগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। শীতের কারণে প্রস্তুতিহীন সাধারন মানুষ পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করতে পারেননি। বিশেষ করে গ্রাম ও হাওর এলাকার মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, পথশিশু ও খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
শীতের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। শীতজনিত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে বা অতিরিক্ত বেডে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও কাজের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে সেখানে চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নবীগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আসছে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। শীতজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের অবস্থা গুরুতর হয়ে আসছে। শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় শীতের সময় তারা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নবজাতক ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অপরদিকে, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা বেড়ে যায়।
নবীগঞ্জ ইউনাইডেট হসপিটালের পরিচালক মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রচুর শিশু রোগি ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আসছেন। প্রতিদিনই রোগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫০ জন রোগি আমার হাসপাতকালে ঠান্ডা জনিত রোগে ভর্তি হয়েছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমল্পেক্সের টিএইচও ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের নবীগঞ্জ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগির সংখ্য প্রচুর বৃািদ্ধথ পেয়েছে। শীতজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশেষ করে শিশুদের অবস্থা গুরুতর হয়ে আসছে। শিশু ও বয়স্কদের প্রচন্ডশীতে তুলনামূলকভাবে রোগির সংখ্যা শীতের সময় দ্রুত বৃদ্ধিপায়। তিনি বলেন এখন আমাদের হাসপাতালের বেডে জায়গা নেই তাই ঠান্ডা জনিত রোগি মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত শতাধিক রোগি চিকিৎসা নিয়েছেন।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:২৪:৫০   ৬৫ বার পঠিত  |