![]()
নারায়ণগঞ্জ: মাত্র দেড়মাস আগে মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলেন রাসেল। কাজের যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি মালবাহী লড়ি এসে তাকে চাপা দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তার। ঋণ করে পরিবার পরিজন রেখে বিদেশ গিয়েছিল সে। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে তার পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
মঙ্গলবার বিকেলে তার মরদেহ বাংলাদেশে এনে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করেছে পরিবার। এর আগে ওই দিন দুপুর একটার দিকে পাঁচগাও চরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছায় তার মরদেহ।
নিহত রাসেল মিয়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাও চরপাড়া এলাকার মৃত মনসুর আলীর ছেলে।
নিহতের খালাত ভাই জাকির হোসেন জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে গত নভেম্বরে ফের মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে রাসেল চার নম্বরে। তিনি মালেয়শিয়ার পেনাং রাজ্যের সুঙ্গাই জাভি শহরের একটি কোম্পনীতে শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মত গত ২২ ডিসেম্ভর সকালে কাজে যোগদানের উদ্দেশ্যে সাইকেল নিয়ে বের হন। সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি মালবাহী লড়ি তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) ফিল্ড অর্গানাইজার ছোবহান আলী জানান, তার নেতৃত্বে ওকাপ এর একটি প্রতিনিধিদল এয়ারপোর্টে গিয়ে পরিবারের সাথে রাসেলের মরদেহ গ্রহণ করেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে দাফনকার্যের চেক গ্রহণ, ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থপ্রাপ্তি ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে সরকারি সহযোগিতার বিষয়ে তথ্য দিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাসেলের পাঠানো টাকা দিয়ে সংসারের ব্যায় নির্বাহ করতো। এখন সংসার পরিচালনা করা নিয়ে পরিবারটি বেশ দুচিন্তায় পড়ে পড়ে যান । তার অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলো। কে দেখবে তার এই সংসার?স্বপ্ন পূরণ হলো না রাসেল মিয়ার পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান রাসেল। ধার-দেনা করে মালয়েশিয়ায় আসলেও সেই ধারের টাকা শোধ করতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ ৭টি বছর মালয়েশিয়ায় দুঃখ কষ্টে দিন অতিবাহিত করেছেন তিনি।
স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে রাসেল মিয়ার আয় দিয়ে অভাবের সংসার কোন রকমে চলে। জীবনের গুরুত্বপুর্ণ সাতটি বছর কাটিয়ে দেন মালয়েশিয়ায়। রাসেল মিয়া পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য নিজের জীবনের পরোয়া না করে অনেক ঝুঁকিপূর্ন কাজ করতেন মালয়েশিয়ায়। ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে কোনো কষ্টকে পাত্তা দেননি তিনি।
রাসেল মিয়ার বড় ভাই সামছুল ইসলাম জানান, রাসেলের মেয়ে মীম আক্তার সপ্তম শ্রেনিতে (১২) ও ছেলে আদনান মিয়া (৭) স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। মালয়েশিয়ায় এসে পরিবারকে ভালো কিছু দেয়ার প্রত্যাশা ছিল তার। ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করাবে। পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটবে, ছেলে মেয়েদের মানুষের মতো মানুষ হবে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পূরণ হবার আগেই সব যেন শেষ হয়ে গেলো।
নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, মালয়েশিয়ায় গিয়ে উপার্জন করে পরিবারের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগে আমাদের পরিবারের সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এখন আমি আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি, এ কথা বলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। স্বজনদের আহাজারি দেখে ছেলে মেয়ে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে। আশপাশের লোকজন স্বান্তনা দিয়েও তাদের কান্না থামাতে পারছেননা। পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে বাড়িতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৯:৩৯ ৩৫ বার পঠিত | ● ফিরল ● মালয়েশিয়া ● রাসেল ● লাশ