![]()
ঢাকা: দোহার উপজেলায় যত্রতত্র গড়ে উঠা ইট ভাটার কাচাঁমাল হিসেবে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফসল উৎপাদনে ধস নামার আশঙ্কা,একই সাথে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন। প্রশাসনের নজরদারী বাড়াতে দাবী জানিয়েছেন দোহারবাসী।
গত এক সপ্তাহে সরেজমিনে গিয়ে কৃষক ও সাধারন মানুষদের সাথে আলাপকালে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। দোহার উপজেলার মুকসুদপুরের মৌড়া,পল্লী বাজার, ধীৎপুর, মধুরখোলা, নারিশা ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিন শিমুলিয়া (জালালপুর), হাসির মোড়,সিরাজ উদ্দিনপুর,সুতারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর ডায়ারকুম-ডায়াগজারিয়া,বিলাশপুর,নিকড়া, চর-ইউসুফপুর, রাইপাড়ার ইসলামপুর, মাহমুদপুর ইউনিয়নে হরিচন্ডি ও চর-মাহমুদপুর এলাকায় কৃষকের ফসলের মাঠ থেকে জমির প্রাণ টপ সয়েল নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে সংগ্রহ করছে ইটভাটার মালিকরা। আর এই টপ সয়েল পোড়ানো হচ্ছে ইটভাটায়। আরও জানা যায়, ইটভাটার মালিকরা ও মাটি ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে ও সরকারি আইনকে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে এবং ইটভাটায় আইন লঙ্ঘন করে ফসলি জমির মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট।
ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসহ হুমকির মুখে পড়েছে জনজীবন। মাটি কেনাবেচায় কৃষকরা আপাতত লাভবান হলেও ক্ষতির মুখে পড়ছে জমির উর্বরতা শক্তি। এছাড়া মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমি নিচু হয়ে পড়ায় চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফসলি জমি কেটে পুকুর করার প্রতিযোগিতা। ফলে প্রতি বছরই সেচ প্রকল্পের ভেতরে ইরি-বোরো ধান আবাদ করা জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন প্রশাসনের অজ্ঞাত কারণে আইন প্রয়োগ না হওয়ায় দোহার উপজেলায় অবাধে চলছে জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রির মহোৎসব। আর এই মাটি পরিবহন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাহেন্দ্র ও এক্সভাইটর মেশিন। মাহেন্দ্র গাড়ী ও এক্সভাইটর মেশিন চলাচলের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দোহার উপজেলার রাস্তা-ঘাট।
আবাসিক এলাকায় চলছে (এসবিআই) ইটের ভাটা, সুতারপাড়ার উত্তর ডায়ারকুম-ডায়াগজারিয়ায় পদ্মা ব্রিকস ফিল্ডস ও ঢাকা ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ,কেবিএম,ডিবিএফ,পিবিএফ,রহিম একতা ইটভাটাসহ আরও বেশ কয়েকটি ইটভাটা, রাইপাড়ার ইসলামপুরে রয়েছে পাঁচটি ইটভাটা এবং মাহমুদপুরে রয়েছে একটি ইটভাটা। এছাড়াও নামে বেনানে এই উপজেলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি ইটভাটা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলাপকালে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুকরা জানান, প্রশাসন নীরব ভূমিকায়,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্রে সংবাদের শিরোনাম দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন কর্তারা।
এ ঘটনায় রসুলপুর গ্রামের ওয়াজউদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেন ও শাহেদ আলী বেপারী ছেলে হজরত আলী অভিযোগে জানান, পৌরসভার রসুলপুর ও ইসলামপুর চক থেকে ফসলি জমির মাটি কেঁটে মাহেন্দ্র গাড়ির মাধ্যমে পরিবহনকালে আমাদের জমি উপর দিয়ে তা পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে আমাদের ফসলি জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। এ ঘটনায় আমরা এর প্রতিবাদ করলে এবং মাহেন্দ্র গাড়ি আটক করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের মারতে আসে। এ সময়ে আমাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিবে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা মৎস্য দলের সভাপতি মো.রমজান হোসেন জানান, এই অঞ্চলের কৃষকদের ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন একশ্রেনীর ফড়িয়া মাটি ব্যবসায়ীরা। এদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন এলাকার কিছু বখাটে ছেলেরা।এসকল ইটভাটা থেকে তারা মাসিক মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন অভিযান পরিচালনা করা হয় নাই। তাই কৃষক ও জমির মালিকদের সাথে নিয়ে মানববন্ধন ও দোহার উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দোহার থানা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে। প্রশাসন কর্তারা জনস্বার্থে কি ভুমিকা গ্রহন করেন।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান,সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাননীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক সাহেব কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় মাটির বিষয়ে কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না। কোন অভিযোগ পেলেই দন্ডাদেশ প্রদানের নির্দেশনা জানিয়েছেন।
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.তাসফিক সিবগাত উল্লাহ জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নিবন্ধিত ইটভাটাগুলির তদন্ত চলছে। অবৈধ ইটভাটা চলারতো কোন প্রশ্নই আসেনা। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করে কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা এবং মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মাঈদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীরা এখন থেকে সরাসরি আমার কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে। আমি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। শুধু ঘটনাস্থল ও জড়িতদের নাম-ঠিকানা জানালেই হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি জমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এন/ এন
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪০:০৫ ২২৯ বার পঠিত | ● ইট ● কৃষিজমি ● দোহার ● ভাটা