
কুড়িগ্রাম: মোর আর বাড়ী ভাঙ্গার চিন্তা নাই। সরকার নদীর পাড় বান্ধা শুরু করছে। স্বপ্নেও মুই ভাবং নাই কোন দিন এই নদীর পাড় বানদিবে। এই নদী মোক ২০ বছর ধরি বন্যার পানির মতো ভাসি নিয়া বেড়াইছে। পোত্তমে বিশ^াস করেং নাই। এখন দেখি সত্যি, নদী বান্ধা দেখি খুশিতে কান্দি ফেলাইছি। নকল নমাজ পড়ছি, মসজিদোত গুড় মানছি। এ ভাবে কথা গুলো বলছিলেন,ফকির পাড়া গ্রামের নদী কুলের বাসিন্দা বিধবা গোলাপী বেওয়া (৫৫)।
হোকডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অটোচালক মো. শফিয়াল হক(৫০) বলেন,নদীর পাড় থেকে বাড়ী সরানোর জন্যে ফাসি দেওয়া বাজারের পাশে জমি কিনছি। নদীর পাড় ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু হওয়ায় বুকে আশা জাগছে। আর পত্রিক ভিটা ছাড়ি যাব না। এর আগে ৪ বার বাড়ী ভাঙ্গছে। এখন আর নদী ভাঙ্গবে না। আল্লাহ আমাদের প্রতি সহায় হয়েছে। শুধু গোলাপী বেওয়া ও শফিয়াল হক নয়,কুমার পাড়া গ্রামের সত্তুর উর্দ্ধে খয়বার আলী,ভেন্ডার পাড়া গ্রামের মো.আব্দুল জলিল(৪৫) ও মো.পারভেজ আলী বলেন,নদীর ভাঙ্গন রোধে সরকারের এ উদ্দ্যোগে তিস্তা পাড়ের মানুষ আমরা মহা খুশি হইছি। এটা আমাদের জন্য আর্শিবাদ। আর বছর বছর বাড়ী ভাঙ্গার চিন্তা করতে হবে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর বাম তীর ভাঙ্গনরোধ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষ খুশিতে ভাসছে। তিস্তা পাড়ের থেতরাই ইউনিয়ন ও বজরা ইউনিয়নের ৫ কিলো মিটার নদীর বাম তীর ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার মানুষ সেই কাজ দেখতে আসে দলে দলে। ঠিকাদারদের নানা ভাবে সহযোগিতা করছে স্থানীয়রা। নদী কুলের মানুষজন জানালেন,নদীতে পানি আসলেই ভয়ে থাকি কখন কি হয়। বাড়ী ভাঙ্গার আগাম প্রস্তুতি নিতে হয়। সেই চিন্তা এখন আর থাকবে না। এ কাজের মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবী পুরনের পাশা পাশি নদী পাড়ের মানুষের দুই যুগের কান্না আর আহাজারীর অবসান হবে। তাদের দাবী কাজটি ভাল ভাবে সম্পন্ন করার।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুড়িগ্রাম বন্যা নিয়ন্ত্রন ও নিস্কাশন প্রকল্প (দক্ষিন ইউনিট)এর আওতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম জেলার থেতরাই ইউনিয়ন ২.৫০ কিলোমিটার ও বজরা ইউনিয়নে ৩ কিলোমিটার তিস্তা নদীর বাম তীর ভাঙ্গনরোধে পুর্বসর্তকতামুলক কাজ শুরু করে। ৬টি প্যাকেজে ৫টি ঠিকদারী প্রতিষ্টান এ কাজের দায়িত্ব পান। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে বাকী কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কাজের মধ্যে রয়েছে মাটি স্লোপ কাটিং,জি ও টেক্্রাইইল, জিওব্যাগ ডাম্পিং ও বালু ও সিমেন্ট মিশ্রিত ব্যাগ দিয়ে নদীর তীর ভাঙ্গনরোধ নিশ্চিত করা।
থেতরাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান সরকার বলেন,আমি নিজে মাঝে মধ্যে কাজ দেখতে যাই। যেটুকু দেখেছি কাজ মোটা মুটি ভাল হচ্ছে। ঠিকাদারদের কাজটা ভাল করার জন্য অনুরোধ করেছি। কাজটা হয়ে গেলে তিস্তা পাড়ের দুটি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের লাখো মানুষ নদী ভাঙ্গার কবল থেকে মুক্তি পাবে।
বেলাল কনস্ট্রাকশনের সাইড ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ইতি মধ্যে আমাদের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৮০ ভাগ। আশা করি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব। চেষ্টা করছি কাজের মান নিশ্চিত করার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আপেল মাহমুদ বলেন, সার্বক্ষনিক সাইডে থেকে শত ভাগ কাজ বুঝে নিতে চেষ্টা করছি। আশা করি নদীতে পানি আসার আগেই কাজ শেষ করতে পারব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধের কাজটি শেষ হলে দুটি ইউনিয়নের ভাঙ্গন ঝুকিতে থাকা ৩০ হাজার পরিবার উপকৃত হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের বলেন,ভাঙ্গনরোধের কাজটি সম্পন্ন হলে তিস্তার পাড়ে বসবাসকারী ভাঙ্গনের ঝুকিতে থাকা ৩০ হাজার পরিবার নিরাপদ হবে। কাজটি ভাল ভাবে করা হচ্ছে যাতে টিকসই হয় বলে জানান।
বাংলাদেশ সময়: ০:২০:৪৫ ১১৩ বার পঠিত | ● উলিপুর ● নির্মান ● বাধ