
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জে শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খননের কাজ বর্ষার পানিতে ভরপুর খালের পানির নীচ কাদামাটি এক্সভেটর মেশিন দিয়ে তোলাসহ নানা অনিয়মের ঘটনা গুলেঅ বিস্তারিত হবিগঞ্জ জেলা সম্বনয় সভায় তুলে ধরেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমীন । গতকাল ১৯ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.জিএম সরফরাজ এর সভাপতিত্বে জেলা আইন মৃংখলা ও সম্বনয় সভা শুরু হলে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বক্তব্যে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খননের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি লিখিত ভাবে এলাকাবাসী তাকে জানিয়েছেন, এনিয়ে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। ইদানিং এক্সভেটর মেশিন দিয়ে পানির নীচ থেকে কাঁদা তোলা হচ্ছে। এলাকার সচেতন মহলের দাবি তাহলে এই বিল কিভাবে করা হবে।
কত ফুট খনন হয়েছে, কতটুকু কাজ হয়েছে বুঝবেন কি করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আর্কষন করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে জেলা প্রশাসক ড.জিএম সরফরাজ জাপানি প্রকল্প জাইকার কাজের তদারকির জন্য এটি তদন্ত করে তাকে জানানোর জন্য হবিগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীকে দাযিত্ব প্রদান করেন।
এদিকে ছয় কোটি ১২ লাখ টাকার নরখাই শেরখাই নদীর খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সরকারী প্রজেক্টের মাটি দিয়ে নিজের বাড়ির পুকুর ভরাট করেছেন এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী তাদের বাড়ি ঘর, পুকুর ও রাস্তাঘাট।ফলে প্রকল্পের কাজ মনগড়া ভাবে করছেন প্রকল্প কমিটি। পানির নীচ থেকে ডেকো মেশিন( এক্সভেটর) দিয়ে কাদা তুলে খাল খনন এলাকায় হাস্যরস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে ইউএনও রুহুল আমীন এর নিকট। অনিয়মের বিষযে প্রকৌশলী অফিসের নীরবতা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। এলাকাবাসীর অভিযোগটি তদন্তের জন্য নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নবীগঞ্জ ইউএনও রুহুল আমীন সরজমিনে নরখাই ও শেরখাই খাল খননের বিষয়টি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহনের আস্বাস দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নবীগঞ্জের দীগলবাক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনকে সভাপতি করে শেরখাই ও নরখাই নদী খননের জন্য জাইকার ৬ কোটি ১২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করা হয়।
দলটির পতনের পর বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা প্রকল্পটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে কাজ পরিচালিত হচ্ছে আগের যুবলীগ নেতা দোলনের গঠন করা কমিটির মাধ্যমেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০ ফুটের জায়গায় ২-৩ ফুট গভীর করে খনন করে বর্ষার অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্ষাকালে নদীতে পানি উঠলে প্রকৃত গভীরতা বোঝা যাবে না। হঠাৎ করে বর্ষার পানি আসায় প্রকল্পটি দুটি খাল নরখাই ও শেরখাই পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এর পরেই এক্সভেটর মেশিন দিয়ে প্রায় ৮/১০ ফুট পানির নীচ থেকে খাল খননের নামে কাদামাটি তোলা হচ্ছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমীন বলেন, নরখাই ও শেরখাই নদীর খাল খনন বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, আমরা নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসারকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছি ও আমি ঘটনাস্থ সরজমিন পরিদর্শন করেছি। আমি গতকাল (১৯ এপ্রিল) হবিগঞ্জ জেলা সম্বনয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরেছি জেলা প্রশাসক এবিষয়ে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ফজলুল হক মনি বলেন, আমি এলাকাবাসীর গন স্বাক্ষরকৃত অভিযোগ তদন্ত করে দেখছি। আমি সরজমিন উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করবো।
উল্লেখ্য যে, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাও এলাকার শেরখাই ও নরখাই নদীর জাইকা প্রকল্পের ৬ কোটি ১২ লাখ টাকার প্রজেক্ট আওয়ামীলীগ আমলে শুরু হয়। অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগে কিছুদিন বন্ধ থাকার পরে এখন আবার পানিতে ভরপুর নদীর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারে আমলে এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৪:২৫ ৮৫ বার পঠিত | ● খাল ● নবীগঞ্জ ● নরখাই শেরখাই