ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » নবীগঞ্জে সব বালু মহালে সরকারী নিষেধাজ্ঞা

নবীগঞ্জে সব বালু মহালে সরকারী নিষেধাজ্ঞা


এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


 নবীগঞ্জে সব বালু মহালে সরকারী নিষেধাজ্ঞা

হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট ও শেরপুর অর্থনৈতিক জোন এলাকায় অবৈধ বালু মহালে বালু তোলা প্রতিযোগিতা চলছে। এবিষয়ে একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে নজর পড়েছে নৌ-পরিবহন ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের। সরকারী ভাবে নবীগঞ্জের বালু তোলার উপর নিষেধাঙ্গা দিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। শনিবার বিকালে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী মোঃ রুহুল আমীন এই আদেশের কথা জানান।
জানা গেছে, কুশিয়ারা নদীর অবৈধ বালু তোলার ফলে, নদীর তীর বর্তী গ্রামের বাসা বাড়ি, অর্থনৈতিক জোন এলাকা, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড ও বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট এখন হুমকি মুখে। কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন দিনি তব্রি হচ্ছে।নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।

কোন প্রকার অনুমতি না নিয়েই স্থানীয় প্রশাসরে নাকের ডগায় অবাধে বালু উত্তোলন শুরু হয়। বালু খেকো তালুকদার এন্টারপ্রাইজ এবং বালু আশ্রাফ ও ওয়াহিদ এন্টার প্রাইজ এসব বালু বেপরোয়াভাবে উত্তোলন শুরু করে । তারা নিজেদের ক্গাজ পত্র রয়েছে বলে জোরদাবি তুলে। তাদের সাথে জড়িত রয়েছেন নবীগঞ্জের পৌরসভার সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির কয়েকজন উপজেলার শীর্ষ নেতা।

এবিষয়ে গনমাধ্যমে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ হলে ঢাকা থেকে নৌ-পরিবহন ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টিতে বিষয়টি আসে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী  হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.জিএম সরফরাজ নবীগঞ্জের সকল প্রকার বালু তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদেশ দেন।

এবিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু তোলার কোন ভৈধ অনুমতি কারোর নেই। তাই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে কেউ বালু তুলতে পারবেন না। যদি সরকারী আদেশ অমান্য করে কেউ বালু তোলার কাজ করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরকার পট-পরির্তনের পর স্থানীয় এবং উপজেলার শীর্ষ বিএনপির এক নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় বর্তমানে বালু আশরাফ,তালুকদার এন্টারপ্রাইজ ও ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ, দীঘলবাক মৌজার দুর্গাপুর ও গালিমপুর এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। জড়িত রয়েছেন স্থানীয় মেম্বার রুহেল আহমেদ, ফখরু মেম্বার, নুরুল আমীন ও দুলাল মেম্বার। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কুশিয়ারা নদী থেকে টানা অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখে ছিলেন। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরে অবস্থিত নির্মাণাধীন প্রতিরক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রভাবশালীদের দাপটে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে মামলা-হামলার ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্থানীয়রা।
চার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা শেরপুর সেতুর অদূরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একাধিক সংঙ্ঘবদ্ধ চক্র। আউশকান্দি ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল এলাকা থেকে ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ, তালুকদার এন্টারপ্রাইজ, বালু আশ্রাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনুমতি না নিয়ে সর্ম্পূন অবৈধভাবে কুশিয়ারা নদীতে ৫-৬টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল এতে সরকার বঞ্চিত রয়েছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে।

আওয়ামীলীগ, বিএনপি মিলেই কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রন। আজ অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ন বন্ধের আদেশ এলাকা জানাজানি হলে সাধারন মানুষের মধ্যে স্বস্থির নিঃস্বাস ফিরে আসে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৫:০৬   ৭৫ বার পঠিত  |