ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদ » ময়মনসিংহ » ১৭ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি রামনাথপুর স্থলবন্দর

১৭ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি রামনাথপুর স্থলবন্দর


শেখ শামীম, ( নেত্রকোনা )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


১৭ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি রামনাথপুর স্থলবন্দর

নেত্রকোনা: সীমান্তঘেঁষা শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রামনাথপুর- চারপাশে পাহাড় আর সবুজের মাঝে এক সময় জেগেছিল উন্নয়নের বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ছিল একটি স্থলবন্দরকে ঘিরে। কিন্তু দেড় যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও বাস্তবতার মুখ দেখেনি প্রস্তাবিত রামনাথপুর স্থলবন্দর।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী রংছাতি ইউনিয়নের রামনাথপুর এলাকায় প্রায় ১৭ বছর ধরে স্থলবন্দর প্রকল্পটি কেবল কাগজ-কলম, চিঠি চালাচালি ও দপ্তরীয় জটিলতায় আটকে রয়েছে। ফলে দিন দিন বাড়ছে সীমান্তবাসীর হতাশা ও ক্ষোভ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে , ২০০৯ সালে রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক (অভ্যন্তরীণ) ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের আশায় এলাকাবাসী তখন আশাবাদী হয়ে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে।

স্থানীয় আদিবাসীসহ সাধারণ বাসিন্দারা জানান, স্থলবন্দর চালু হলে এই সীমান্ত এলাকায় বৈধ বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। পরিবহন, গুদামজাতকরণ, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে সৃষ্টি হতো ব্যাপক কর্মসংস্থান। বদলে যেত পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।

তবে স্থলবন্দর না থাকায় অতীতে সীমান্ত এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য ও চোরাচালানের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে এসব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং নিয়মিত অভিযানে চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হচ্ছে।

রামনাথপুর গ্রামের আদিবাসী বাসিন্দা মতিশ ম্রং বলেন, স্থলবন্দর চালু হলে বৈধ বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম কমে আসবে।

রামনাথপুর আমদানি-রপ্তানিকারক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ১৭ বছর ধরে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া থাকলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা হতাশ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সীমান্তবাসীর জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাবে।

কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, স্থলবন্দর চালু হলে চোরাকারবারে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সার্বিক উন্নয়ন হবে। সরকারও পাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মিকাইল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে নবাগত নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ঝুলে থাকা রামনাথপুর স্থলবন্দর প্রকল্প এখন সীমান্তবাসীর আশা-হতাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্তে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলে যাক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার।

এন, আর

বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩০:২৭   ৭৭ বার পঠিত  |