![]()
গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সাত বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হবে। ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ করবে জামায়াত জোট।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারের জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পরে তা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
১১ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সাত বিভাগীয় শহরে সমাবেশ হবে। মূল দাবি- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে শান্তি ফিরিয়ে আনা।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠের আন্দোলন চলবে। আগামী দিনে সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের কণ্ঠ ও রাজপথে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান হবে। এ আন্দোলনে দেশবাসীর সমর্থন, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার এত বেশি দলীয়করণ, নিয়োগ বাণিজ্য করেছে তা নজিরবিহীন। বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিজেদের দলের লোকদের নিয়োগ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কর্মসূচি নিয়েছি এবং রাজপথে আন্দোলন চলবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে সরকার। সরকারি দল এখন সংসদে ছলচাতুরি করে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
১১ দলীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা হবে জানিয়ে হামিদুর রহমান বলেছেন, জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশে শীর্ষ নেতারা ও লিয়াঁজো কমিটির সদস্যরা যাবেন। জেলাভিত্তিক সফর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেক মহানগর ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সঙ্গে মতবিনিময় করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
১১ দলের সমন্বয়ক বলেছেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্য হচ্ছে, অশুভ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে ছাত্রদলকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য সরকারি উপায়-উপকরণ, সংস্থা ও পক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অশুভ পাঁয়তারা রুখে দিতে হলে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে- এজন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ১১ দল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৫:১১ ৭৩ বার পঠিত | ● জামায়াত ● জোটের বিভাগীয় . সমাবেশ