![]()
ঢাকা: দোহারে বিলাশপুরের রাধানগর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত স্বামী-স্ত্রীর এতিম সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ঢাকা-১(দোহার ও নবাবগঞ্জ) উপজেলার সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।
রোববার বেলা ২ টায় উপজেলার রাধানগর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ খবর নেন। এসময় তিনি নিহত আব্দুস সালাম শিকদারের ছোট দুই মেয়ের লেখাপড়াসহ বাসস্থান তৈরী করে দেয়ার দায়িত্ব নেন। এছাড়াও তাৎক্ষণিক তিনি ৫০ হাজার টাকা নিহতের দুই মেয়ের হাতে তুলে দেন।
উল্লেখ্য শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সৌদি আরব ফেরত আব্দুস সালাম শিকদারের টিনকাঠের বসত ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ সময়ে বসত ঘরে স্বামী-স্ত্রী,দুই কন্যা ও এক ৫ বছরের শিশু নাতি অবস্থান করছিল। আগুন বসতঘরে ছড়িয়ে পড়লে ঘুম থেকে সবাই জেগে ওঠে। গৃহকর্তা সালাম বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করতে গেলে বিদ্যুৎতের তার জড়িয়ে তার মৃত্যু হয়। এসময়ে গৃহকর্তি মা নাছিমা শাবল দিয়ে ঘরের জানালা ভেঙে তার নাবালিকা দুই মেয়ে ও নাতিকে ভাসুর আয়নাল শিকদারের কাছে তুলে দেন। এরপর তিনি ও তার স্বামী আর বের হতে পারেনি। আগুনে দগ্ধ হয়ে দুই জনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
নিহত সালাম শিকদারের বড় ভাই আয়নাল শিকদার(৬০)জানান, নাছিমা তার সন্তানদের আমার হাতে তুলে দিয়ে নিজে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময়ে জানালায় তার শরীর আটকে যায়। ততক্ষণে আগুনের শিখা দাবালনের মতো জ্বালিয়ে দেয়। আমি নিজেও আগুনের ভয়াবহতা আহত হয়েছি।
জানা যায়, আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত ওই পরিবারের কোনো মাথা গোঁজার ঠাই নেই। একটি মাত্র টিনের ঘরে বসবাস করতো সালাম দম্পত্তি ও তার দুই শিশু কন্যা। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তারা স্বামীর বাড়িতে থাকেন।
রোববার দুপুর ২টায় রাধানগরে পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য আবু আশফাক নিহত সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি এ মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। আল্লাহ যেন কাউকে এ ধরনের বিপদে না ফেলেন। এসময় তিনি এতিম দুই শিশু কন্যাকে পাশে বসিয়ে সান্ত্বনা দেন। তাঁদের ভরণপোষণসহ বাসস্থান নির্মানে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
আশফাক আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ঘটনার শোক জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে থাকার জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের ওই পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা করার তাগিদ দেন। এসময় তিনি সালামের দুই কন্যার হাতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেন। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আরো ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের, সাবেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বেপারী, ঢাকা জেলা যুবদলের জেষ্ঠ্য সহসভাপতি আবুল হাশেম বেপারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নিহত সালামের চার কন্যা ও স্বজনরা।
এর আগে সংসদ সদস্য দোহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে কর্মশালা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ শতাধিক মৎস্যজীবী অংশ নেয়। নিষিদ্ধ মৌসুমে যাতে পদ্মায় কোনো ইলিশ বা জাটকা শিকার না করা হয় সেই বিষয়ে তিনি সবাইকে সর্তক থেকে কাজ করার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম।
এন/ আর