ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ২বছর ধরে জনদুর্ভোগ

রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ২বছর ধরে জনদুর্ভোগ




রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ২বছর ধরে জনদুর্ভোগব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গুরা বাজার থেকে সাতমোড়া ইউনিয়নসহ ৫টি গ্রামের সাথে যোগাযোগের জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি কেটে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাঙ্গুরা গ্রামের প্রভাবশালী মোবারক হোসেন দারোগা (অবঃ)বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। তিনি তার’ নিজস্ব জায়গা দাবী করে ‘বাঙ্গুরা বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে তার বাড়ির সামনে বাঙ্গরা টু সাতমোড়া ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ ১২ ফুট প্রস্থের রাস্তার প্রায় ১৫ ফুট অংশ কেটে দেন । তিনি তার জায়গার উপর দিয়ে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল করতে দিবেন না।

গতকাল সোমবার (১১/০৫)সারজমিন এলাকায় গেলে স্থানীয়রা বিগত প্রায় দু’বছর ধরে রাস্তার আশেপাশের পাঁচটি গ্রামের জনদুর্ভোগের এই চিত্রটি তুলে ধরেন। বাঙ্গরা, আশরাফপুর, বলিবাড়ী, চেচড়া, সাতমোড়া গ্রামের প্রায় ৫/৭ হাজার লোক ও যানবাহন বাঙ্গরা টু কোম্পানীগঞ্জ, বাঙ্গুরা টু নবীনগরসহ আশেপাশে বিভিন্ন অঞ্চল, উপজেলা ও জেলায় পর্যায়ে যাতায়াত করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে তৎকালীন এমপি এবাদুল করিম বুলবুল মহোদয় জনস্বার্থে এলাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য মোবারক সাহেবকে রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এমপি মহোদয়ের অনুরোধে তিনি রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দেন। এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) রাস্তার সংস্কার কাজও করে। বিগত ২৪ এর ৫ ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ওই প্রভাবশালী দারোগা তার বাড়ীর সামনের অংশটুকুর রাস্তা কেটে দেন। ফলে দুর্ভোগকে পড়েন শত শত যানবাহন ও এলাকার হাজারো জনতা।

এ ব্যাপারে কথা হয় এলাকার মুরুব্বী আব্দুর রহিম (৮২),আব্দুল মজিদ (৭৫),মোঃ একলাস মিয়া (৬০)সহ অনেকের সাথে। তারা বলেন,তৎকালীন এমপি বুলবুল সাহেবের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ওই ৫টি গ্রামের বৃহত্তর অঞ্চলটি যাতায়াতের একটি মাইলফলক সৃষ্টি হয়। এমপি সাহেবের অনুরোধে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই তার অংশের জায়গাটুকু রাস্তার জন্য ছেড়ে দেন। এখন শুনতে পাচ্ছি তিনি নাকি উক্ত জায়গার মূল্য চান কিন্তু এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে মোবারক সাহেব কোন কথা বলেননি।

এ ব্যপারে মোবারক হোসেন বলেন,আমার ব্যক্তিগত জায়গার উপর দিয়ে জোরপূর্বকভাবে আমার ওয়াল ভেঙে তারা রাস্তা নিয়েছে,আমি রাস্তা দেয়নি। আমার এই জায়গা ছাড়া আর জায়গা নেই, আমি তাদের বলেছিলাম উত্তরাংশে আমার জায়গার পাশ দিয়ে রাস্তা নিতে তারা শুনেনি, আমার বাড়ির মাঝখান দিয়ে নিয়েছে, কেন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নিতে হবে?তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে।আমার বাড়ির ক্ষতি করে রাস্তা দিব না। এমপি মহোদয়ের সাথে এ ব্যপারে আমার কথা হয় নাই। কারোর জায়গা নিতে হলে আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিতে হয়, জোর করে কিছু হয় না।

এ ব্যাপারে ওই এলাকার ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন বলেন,এই রাস্তাটি বাঙ্গরা টু বলিবাড়ী গিয়ে সাতমোড়া ইউনিয়নে যাওয়ার রাস্তায় সংযুক্ত হয়েছে।বাঙ্গরা থেকে বলিবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিঃ মিঃ এই রাস্তাটি অত্র ৫/৭টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ফসল। মানুষ তাদের জমি/জায়গা দিয়ে ১২ফুট প্রস্থে এই রাস্তাটি তৈরি করেন। তৎকালিন এমপি বুলবুল মহোদয়ের অনুরোধে মোবারক সাহেব স্বইচ্ছায় তার বাড়ির অংশ টুকু রাস্তার জন্য ছেড়ে দেন।এই রাস্তায় এলজিইডি’র সংস্কার কাজ হয়েছে এবং আইডি নাম্বারও পরেছে। সরকার পরিবর্তনের পর কেন কি কারণে তিনি রাস্তা কেটে ফেলেছেন জানিনা, আমাদের সাথে কোন যোগাযোগও তিনি করেননি। রাস্তাটি কাটার ফলে চরম জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

এ ব্যাপারে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল রবি বলেন,তৎকালীন এমপি সাহেবসহ আমরা এলাকাবাসী মোবারক সাহেবের কাছ থেকে জনস্বার্থে রাস্তটি চেয়ে নেই। সরকার পরিবর্তনের পর কেন তিনি এটা করলেন জানিনা।জনস্বার্থে বর্তমান এমপি সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণসহ মোবারক সাহেবের কাছে রাস্তাটি উন্মুক্ত করার দাবি জানাই।

এ ব্যাপার বর্তমান স্থানীয় সাংসদ আব্দুল মান্নান বলেন, আপনাদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনলাম, খোঁজখবর নিব, জনস্বার্থের দিকটির উপর গুরুত্ব দিয়ে রাস্তাটির উন্মুক্তের বিষয়ে প্রয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৩:১০   ৮২ বার পঠিত  |