ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » খুলনা » পাইকগাছা সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই প্রশস্তকরণ কাজ

পাইকগাছা সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই প্রশস্তকরণ কাজ


আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


 পাইকগাছা সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই  প্রশস্তকরণ কাজ
খুলনা: পাইকগাছা উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ১৮ মাইল-বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা হাইওয়ে সড়কের আধুনিকায়ন ও প্রশস্তকরণ কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। সরকারের এই বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞকে এলাকাবাসী স্বাগত জানালেও পাইকগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র সরল জিরো পয়েন্ট থেকে প্রথম কালভার্ট পর্যন্ত অংশে সড়কের মাঝপথে দণ্ডায়মান বৈদ্যুতিক খুঁটি গুলো এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের দুই পাশে উন্নয়ন কাজ চললেও দুই ধারে বড় বড় বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণ না করায় চরম ভোগান্তি ও প্রাণহানির ঝুঁকিতে রয়েছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, শিববাটি ব্রীজ সংলগ্ন পাইকগাছা-কয়রা অভিমুখে প্রধান সড়কের দুই পাশে মাটি খোঁড়া ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। অথচ সড়কের মূল সীমানার ভেতর পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে।

বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট এলাকায় যেখানে যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি, সেখানে এই খুঁটিগুলো যানচলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই খুঁটিগুলো দ্রুত অপসারণ করা না হলে সড়কের প্রশস্ততার সুফল অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধী সমাজ। এ বিষয়ে স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তা বড় হচ্ছে এটা খুশির খবর, কিন্তু রাস্তার মাঝখানে এই খাম্বা (খুঁটি) রেখে কাজ করলে লাভ কী? এগুলো তো মরণফাঁদ। রাতের অন্ধকারে যে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। একই রুটের একজন বাস চালক বলেন, জিরো পয়েন্ট এমনিতেই ব্যস্ত এলাকা। তার ওপর রাস্তার ভেতর খুঁটি থাকায় গাড়ি ঘোরাতে বা পাশ কাটাতে হিমশিম খেতে হয়। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় কখন খুঁটির সাথে ধাক্কা লাগে।

রাস্তা ঢালাই দেওয়ার আগেই এগুলো সরানো দরকার। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, ব্যস্ততম এই মোড়ে সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। রাস্তার কাজ চলায় এখন কাদা আর পানিতে একাকার অবস্থা, তার ওপর খুঁটিগুলোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সমন্বয় করে এগুলো অপসারণ করা। কাজের অগ্রগতি ও খুঁটি অপসারণের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার কোম্পানি সূত্রে জানায়, শিডিউল অনুযায়ী কাজ চলছে। খুঁটি সরানোর বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ পল্লী বিদ্যুতের সাথে যোগাযোগ করছে। আশাকরি এ সমস্যা আর থাকবে না। এ প্রসঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার তিনি জানান, সওজ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিলেই তারা খুঁটি স্থানান্তরের কাজ শুরু করবেন। বর্তমানে তাদের নিজস্ব কোনো প্রজেক্ট নেই।
পৌরসভার উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সড়কটি প্রশস্ত হওয়া আমাদের সবার কাম্য। তবে উন্নয়নের সুফল পেতে হলে অবশ্যই খুঁটিগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে। আমরা পল্লী বিদ্যুৎ ও সড়ক বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে ঢালাইয়ের আগেই জনদুর্ভোগ লাঘবে খুঁটিগুলো স্থানান্তর করা হয়। জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
এলাকাবাসীর দাবি, আধুনিক ও নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে দ্রুত এই সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে খুঁটিগুলো অপসারণ করা হোক। নচেৎ সরকারের এই বিশাল উন্নয়ন কাজ সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি আর দুর্ঘটনার কারণ হয়েই থেকে যাবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৩:০৯   ৩২ বার পঠিত  |