ঢাকা    শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রচ্ছদ » রংপুর » তিস্তা পাড়ের ২ গ্রামে ভাঙ্গন আতংক,কাজ শেষ না হতেই ডেবে গেছে বাধ

তিস্তা পাড়ের ২ গ্রামে ভাঙ্গন আতংক,কাজ শেষ না হতেই ডেবে গেছে বাধ


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


তিস্তা পাড়ের ২ গ্রামে ভাঙ্গন আতংক,কাজ শেষ না হতেই ডেবে গেছে বাধ
কুড়িগ্রাম: তিস্তা নদীর বাম তীর ভাঙ্গরোধ পুর্ব সর্তকতামুলক প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই প্রকল্পের একশো মিটার নদীতে ডেবে গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন আতংক। ভাঙ্গনরোধ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে আশায় সঞ্চার হলেও আবার সেই ভাঙ্গন আতংকে পড়েছে কালপানি বজরা ও পশ্চিম কালপানি বজরা গ্রামের হাজারো পরিবার। ওই এলাকার মানুষের অভিযোগ সাব ঠিকাদার এক মাস আগে কাজ শুরু করায় প্রকল্পটির কাজ ঝুকিতে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারে গাফিলাতির কারনে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তারা দাবী করেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের গাফিলাতির বিষয় অস্বীকার করে বলেন,সাব ঠিকাদার রাজনৈতিক হওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম বন্যা নিয়ন্ত্রন ও নিস্কাশন প্রকল্পের(দক্ষিন ইউনিট) আওতায় থেতরাই ও বজরা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বামতীর ভাঙ্গনরোধে পুর্ব সর্তকতামুলক প্রকল্পের আওতায় নদী বামতীর উপরের অংশে সিমেন্ট বালুর মিশ্রনে জিও ব্যাগের স্লোপ কাটিং, টপ, গাইর্ড ওয়াল এবং নীচের অংশে বালু ভর্ত্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কথা। প্রকল্পের প্রথম ফেজে তিন কিলোমিটারের ১৩টি প্যাকেজে বরাদ্ধ ২০ কোটি টাকা ও দ্বিতীয় ফেজে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার ছয়টি প্যাকেজে বরাদ্ধ ছিল ১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু হয়। মেয়াদ ছিল ওই বছরের ১৮ জুন পর্যন্ত। ওই সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ শেষ করা যায়নি। পরে ঠিকাদাররা আবেদন করলে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানে হয়। নিদিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ১৬টি প্যাকেজের কাজ শেষ হলেও সাব কন্ট্রাক নেওয়া (রাজনৈতিক ঠিকাদার)৩ টি প্যাকেজের কাজ মেযাদ শেষে এসে শুরু করে। এর মধ্যে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ গুলো বেশ ঝুকিতে পড়েছে এবং একশো মিটার ডেবে গেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
মোর কোন থাকার জায়গা আছিল না। এর ওর বাড়ীর কাঞ্চা ছনছা থাকি। মোর দুঃখ কষ্ঠ দেখি জাতাতে ইসলাম নদীর কুলোত ছোট এই ঘরটা করি দিছে। বউ ছাওয়া নিয়া আছোং। কালকার ঝড় বাতাস বৃষ্টি আর নদীর ভাঙ্গন সারা আইত চোখোত ঘুম নাই। শ্যাষ বয়সের ঠিকানা কোনাও বুঝি নদীত যায়। আল্লার কি দয়াও নাই। এভাবে কেদে কেদে কথা গুলো বলছিলেন কালপানি বজরা গ্রামের চির রোগাক্রান্ত মোসলেম উদ্দিন(৭৫)। একই গ্রামের নদী পাড়ের বাসিন্দা রহিম উদ্দিনের স্ত্রী বিধবা মাঝেদা বেওয়া বলেন,নদী বাঁধা দেখি বাড়ী কোনা সরাই নাই এখন যে অবস্থা তাতে বুঝি বাড়ী ভাঙ্গা ছাড়া কোন উপায় নাই। বাড়ী ভাঙ্গলে কি করব কোথায় যামো জানি না। তোমরা তাড়াতাড়ি বস্তা ফ্যালে দেও গো বাবা। মোসলেম উদ্দিন ও মাঝেদা বেওয়ার মত হামিদুল ইসলাম,তোফাজ্জল হকসহ নদী পাড়ের হাজারো পরিবার ভাঙ্গন আতংকে এমন আহাজারী ও বুক ভাটা আর্ত্তনাদ করছে তারা। সবার অভিযোগ সরকার নদী বাঁধার টাকা দিছে। ঠিকাদার সময় মত কাজ শুরু করলে আজ হামাক এই অবস্থা হতো না।
গত ১৮ মে কালপানি বজরা গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, পাঁকা রাস্তার মাথায় তিস্তার বামতীর ভাঙ্গনরোধ পুর্ব সর্তকতামুলক কাজের (৩০০মিটার) নদীর কিছু স্লোপ কাটিং করেছে। তার প্রায় একশো মিটার নদীতে ডেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব ঠিকাদার বিএনপি নেতা বলে কাজে নয় ছয় করে চলে যাবে বলে তাদের ধারনা। এখনও নীচের স্লোপ কাটিং ও গাইড ওয়াল করতে পারেনি। কিভাবে কাজ শেষ করবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী মাঈদুল ইসলাম বলেন,সাব ঠিকাদার শফি মিয়া সময় মত কাজ শুরু না করায় এ অবস্থা। এখন ও গার্ড ওয়াল করা হয়নি। পানির নীচে কি ভাবে কাজ করবেন বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
সাইডের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান পলাশ বলেন, যদি আগে নীচের গাইড ওয়াল করতে পারতাম তাহলে কোন অসুবিধা হত না। কাজটা শুরু হয়েছে দেরীতে তাই এ অবস্থা বলে জানান।
ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি এনামুল হক বলেন,কাজটা শুরু করার জন্য অনেক অনুরোধ করেছি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কিন্ত তারা শোনেনি। নদীর পানির যে অবস্থা এবং যে ভাবে নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তাতে কাজ করা কঠিন হবে। আর বুঝি গ্রাম ২টা রক্ষা করা গেল না।
এ বিষয়ে সাব ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম শফির(বিএনপি নেতা) ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সাইডের বিষয়টি জানে না বলে জানান।
এ বিষয়ে সাব ডিভিশনাল প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের বলেন, ইতি মধ্যে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে যে কোন ভাবে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কাজ শেষ না হলে বিল পাবেন না।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:৩৪   ৫ বার পঠিত  |