![]()
পটুয়াখালী: ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দিতে সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। বৃহস্পতিবার, ২১ মে সকাল ১০ টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আলফা-২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধাজ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় পৃথিবীর যেসব দেশ তাদের সমুদ্র সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহারের পদক্ষেপ নিয়েছে তারা অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের এ জনবহুল দেশের সার্বিক উন্নয়নে সঙ্গত কারণেই ব্লু ইকোনোমি বা সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত অগ্রাধিকারে স্থান লাভ করেছে।’
বাংলাদেশের নৌক্ষেত্রে নানা সম্ভাবনা ও তার নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন , বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা নিয়ে আমাদের আজ বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।যেখানে রয়েছে -মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য, তেল-গ্যাসের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের ব্যবহার যা দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দিতে সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বহিঃ শত্রুর যেকোনো আক্রমণ থেকে সমুদ্রসীমা রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর আধুনিকায়নে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌ-বহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটসহ আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। ‘
এসময় নৌ-প্রধান , স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহিদ লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জম হোসেনসহ সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্প্রতি নৌবহরে দুটি হেলিকপ্টার, দুটি আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকল, ৪ টি মাল্টি মিশন ইন্টারসেপ্টর বোট, পাঁচটি পেট্রোল বোট অন্তর্ভুক্তকরণের পাশাপাশি নিজস্ব ডাটা সেন্টার ও BNNET স্থাপন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ ও এন্ট্রি ড্রোন সিস্টেমসহ আধুনিক প্ল্যাটফর্ম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও, নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ নিজস্ব সক্ষমতায় যুদ্ধজাহাজ, এলসিটি ও অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নৌ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। নৌবাহিনী প্রধান দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে যে-কোন প্রকার ত্যাগ স্বীকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সকল সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নৌবাহিনীর আলফা-২০২৬ ব্যাচের নবীন ৪৪১ জন নাবিকের মধ্যে মোঃ শাহরিয়ার টুটুল পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’লাভ করে। এছাড়াও মোঃ সামিউল ইসলাম শাকিল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’এবং মোঃ কাদের মিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’লাভ করে। একই সঙ্গে সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মোছাঃ মারিয়া আক্তার ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার’পদক অর্জন করে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন নাবিকগণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গৌরবময় অঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ গ্রহণ করে।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৩:২৬ ২১ বার পঠিত | ● নৌবাহিনী প্রধান ● পটুয়াখালী