ঢাকা    সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদ » রংপুর » ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ল্যাম্পি রোগ, শতাধিক গরুর মৃত্যু

ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ল্যাম্পি রোগ, শতাধিক গরুর মৃত্যু


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬


ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ল্যাম্পি রোগ, শতাধিক গরুর মৃত্যু
কুড়িগ্রাম: উলিপুরে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে ল্যাম্পি ও খুরারোগ। গত ১৫দিনে এ রোগে মারা গেছে শতাধিক গরু ও আক্রান্ত হয়েছে সহস্রাধিক। সর্বশান্ত হয়েছে অন্তত ২০টি মিনি খামারের মালিক। চিকিৎসার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না প্রানী সম্পদ বিভাগের চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কাউকে। বাধ্য হয়ে দিশেহারা খামারী ও কৃষকরা গ্রাম্য ডাক্তার অথবা হাতুরে কবিরাজের সরনাপন্ন হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে তাদের ভুল চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে আক্রান্ত গরু। এ অবস্থায় এক খামার থেকে অন্য খামারে ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগ। এ আতংকে অনেক খামারী গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কাসারির ঘাট, কদমতলা, মালচার পাড়, চরেরয়ার পাড়, নীলকন্ঠ, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের, সাতভিটা, হাপারভিটা, দোলন, জলংগার কুঠি, ধরনীবাড়ীর ইউনিয়নের দক্ষিন মধুপুর, মাদারটারী, ধামশ্রেনী ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী, নাওড়া,খাওনার দরগা ও ইন্দারার পাড় গ্রামে এ রোগের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। গত শনিবার হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, ধরনীবাড়ী ও ধামশ্রেনী ইউনিয়নের এ গ্রাম গুলোতে গিয়ে দেখা যায় বাড়ী বাড়ী ৪/৫ টি করে গরু ল্যাম্পি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ধামশ্রেনী ইউনিয়নের খাওনার দরগা গ্রামের খামারী জামাল উদ্দিনের মিনি খামারে ১৬টি গরুর মধ্যে ল্যাম্পি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫টি। যার বাজার মুল্য ৬ লাখ টাকার উপরে। আতংকে বাকী ১১টি গরু পানির দামে বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলে ডাক্তার না এসে, প্রফুল্য নামের একজন কর্মচারী পাঠিয়ে ভ্যাকসিন করে ৩২০০ টাকা নিয়েছেন বলে জানান। সুরির ডারা গ্রামের মিনি খামারী মোস্তা মিয়ার ৮টি গরুর মধ্যে একটি বাছুর আক্রান্ত হয়ে মুমুর্ষ অবস্থায় মরার মত ঘরের পড়ে রয়েছে।

গরুটির সম্পুর্ন গায়ে গোটা গোটা ঘাঁ ও পোকা ধরেছে ১০ দিন হয়। তিনি বলেন, অফিসে গেইছি ৫০০ টাকা জমা নিয়ে ডাক্তার না এসে কর্মচারী জুয়েলকে পাটাইছে সে ভ্যাকসিন করে তেল খরচ ২০০ টাকা নিয়া গেইছে। ভিজিট দিবার চাইছি তবু ও ডাক্তার আসে নাই। গরুটা মোর চোখের সামনে ধুকে ধুকে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে। কি করব আমরা ছোট খামারীরা খুব অসহায় প্রানী সম্পদ বিভাগের কোন সহযোগিতা পাই না।

চিকিৎসার অভাবে,আরো যাদের গরু মারা গেছে,তারা হলেন, কদমতলা গ্রামের করিম উদ্দিনের ১টি, মুকুল মিয়ার ১টি, কছিম উদ্দিনের ১টি,সাহাবুদ্দিনের ১টি, কাশিয়া গাড়ী গ্রামের শফি কামালের ১টি, ভদ্দ্র পাড়া গ্রামের রয়েল মিয়ার ১টি, কুড়ারপাড় গ্রামে একরামুল হকের ১টিসহ শতাধিক গরু মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সহস্্রাধিক গরু। গরুর মালিকদের অভিযোগ, প্রানী সম্পদের চিকিৎসক বা কোন কর্মীকে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে তারা গ্রাম্য ডাক্তার বা কবিরাজের সরনাপন্ন হচ্ছেন। সুচিকিৎসার অভাবে একটি থেকে একাধিক গরু আক্রান্ত হয়ে দ্রুত এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।
গ্রাম্য ডাক্তার বাদল মিয়া বলেন,তিনি প্রতি দিন ১০/১৫ টি আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা দিচ্ছেন। শুধু ল্যাম্পিং নয় সাথে দেখা দিয়েছে খুরা রোগ। ফলে গরুর মালিকরা আতংকিত হয়ে পড়েছে। ভুল চিকিৎসা নয়, গ্রাম্য ডাক্তারদের চিকিৎসা না দিলে গরু মৃত্যু হার বাড়ত।
উলিপুর আদর্শ কেন্দ্রিয় দুগ্ধ উৎপাদন কারী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন বলেন, তার খামারও আক্রান্ত হয়েছিল তিনি আতংকিত হয়ে ৪টি গাভী রেখে সব গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। তার অভিযোগ গরু গুলো ল্্যাম্পি আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে । কিন্ত প্রানী সম্পদ বিভাগের কোন উদ্দ্যোগ বা তৎপরতা চোখে পড়ে না।
উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.রেবেকা বেগম বলেন, ল্যাম্পি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইতিমধ্যে কিছু গরু মারা যাওয়ার কথা জানান। দীর্ঘ দিন ভ্যাকসিন ছিল না। জনবল সংকট। তাছাড়া মানুষ ভ্যাকসিন নিতে চায় না। ড্রাইভার নাই, ২জন জনবল দিয়ে কিভাবে ১৪ টি ইউনিয়ন সামাল দেওয়া যায়। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে উঠান বৈঠক শুরু করেছি। ভ্যাকসিনও দেওয়া হচ্ছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:৩৮   ৮ বার পঠিত  |      

----