![]()
ঢাকা: দোহারে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মারা গেছেন মা ও মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ঋণ আদায়ে এনজিও কর্মকর্তাদের চাপ, ভয়ভীতি ও গালাগালির কারণেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিহতরা হলেন খালপাড় এলাকার লাভলী আক্তার(৪০) এবং তার মা রেহানা বেগম(৫৭)।
নিহতের পরিবার জানায়, উপজেলার দোহার খালপাড় এলাকার মৃত শেখ শহীদের স্ত্রী লাভলী এক বছর আগে ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামে একটি এনজির বটিয়া শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। চলমান কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ছেলে নিয়মিত টাকা পাঠাতে না পারায় ঋণের টাকা শোধ করতে পারছিলেন না ঋন গ্রহিতা লাভলী।
এতে এনজিও কর্মকর্তারা তাকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে, এনজিও’র সদস্যদের ভয়ে মায়ের বাড়িতে যান। গত ২৪ জুন লাভলী আক্তার মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন তথ্য পেয়ে এনজিওর এক কর্মকর্তা সেখানে পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। ওই দিনই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, লাভলী আক্তারের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই তার ঋণের টাকার জন্য তার মা রেহানা বেগমের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেন এনজিও-র লোকজন।
সোমবার সন্ধ্যার আগে এনজিওর লোকজন নাগেরকান্দায় গিয়ে টাকা পরিশোধ না করলে আবারও পুলিশের ভয় দেখায়। এতে মা রেহানা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠায়।
পৌরসভা নাগেরকান্দা এলাকার বাসিন্দা রইস লস্কর বলেছেন, ‘পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এনজিও কর্মকর্তাদের এমন আচরণে ভয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এ বিষয়ে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
রেহানা বেগমের ছেলে নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমার মা ঋণের বিষয়ে অবগত নয়। তারপরও এনজিওর লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে এবং পুলিশের ভয় দেখায়। এনজিওর কর্মকর্তাদের চাপ সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে আমার মা ও বোন মারা গেছে। আমি আমার মা ও বোনের মৃত্যুর বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশনের শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ বলেছেন, ‘ঋণগ্রহীতা লাভলী আক্তার ছয় মাস আগে ঋণখেলাপি হয়েছেন। আমরা টাকা আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। লাভলী মারা যাওয়ার পর আমরা তার ঋণ মওকুফের জন্য মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে তার মায়ের বাড়িতে যাই। কিন্তু টাকার জন্য কোনো চাপ দেওয়া হয়নি।’
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিক বললেন, ‘খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগী পরিবার আমাদের লিখিতভাবে জানালে ওই এনজিওর বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৭:৩১ ২০ বার পঠিত | ● দোহার ● মা ● মৃত্যু ● মেয়ে