![]()
ফরিদপুর: মধুখালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সরকারি সহায়তা এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশাবাদ। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাটক্ষেত যেন আবারও ফিরিয়ে আনছে ‘সোনালী আঁশের’ সুদিনের স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধুখালীতে মোট ৮ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার রায়পুর, মেগচামী, কোরকদী, বাগাট, কামারখালী ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন কৃষিজমিতে ব্যাপকভাবে পাটের চাষ হয়েছে।
কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামের কৃষক মিল্টন বলেন, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠেছে। তবে পাট জাগ দেওয়ার জায়গার সংকট এখনও বড় সমস্যা। ডোবা ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় একই স্থানে বারবার পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে সময়মতো জাগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং আঁশের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষের ওপর দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
কোরকদী ইউনিয়নের পাঁচ কোরকদী গ্রামের কৃষক কার্তিক কুমার জানান, এবারের পাটগাছ ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বেড়ে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের পাশাপাশি পাটের আঁশ ও পাটকাঠি বিক্রি করে লাভজনক আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার পাটের ফলন ভালো হবে। পাশাপাশি কৃষকরা পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও আমরা আশা করছি।”
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩১:০৭ ৭ বার পঠিত | ● আবাদ ● পাট ● মধুখালী