ঢাকা    সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » আমতলীতে এলপিজি বিক্রিতে নৈরাজ্য ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতা

আমতলীতে এলপিজি বিক্রিতে নৈরাজ্য ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতা


আমতলী(বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬


আমতলীতে এলপিজি বিক্রিতে নৈরাজ্য ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতা
বরগুনা: সরকার নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো হলেও আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতারা এখনও অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্যাস বিক্রিতে দেখা দিয়েছে নৈরাজ্য। এতে সাধারণ ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। ক্ষোভ বিরাজ করছে ক্রেতাদের মধ্যে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সিলিন্ডার ভেদে নির্দিষ্ট হারে এলপিজি গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী ১২ কেজি গ্যাস ১হাজার ৫শ’ ২৮টাকা, ১২.৫০ কেজি ১হাজার ৫শ’ ৯১ টাকা, ১৫ কেজি ১ হাজার ৯শ’ ১০ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৫শ’ ৪৬ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ১শ’ ৮৩ টাকা, ৩০ কেজি ৩হাজার ৮শ’ ১৯ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ২শ’ ১টাকা, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ৪শ’ ৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজি গ্যাসের দাম নির্ধারন করা হয়েছৈ ৫ হাজার ৭শ’ ২৯ টাকা। আমতলী উপজেলায় ১২, ১৫ ও ২০ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডারের চাহিদা বেশী। এই তিন ধরনের সিলিন্ডার বিক্রিতে চলছে নৈরাজ্য। সরকারী নির্ধারিত দামের চেয়ে খুচরা বিক্রেতারা সরকার নির্দারিত দামের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা বেশী নেওয়ার অীভযোগ পাওয়া গেছে ক্রেতাদেও নিকট থেকে।
শনিবার সকালে আমতলী উপজেলার পুরাতন বাজার, একেস্কুল, বটতলা, আলহেলাল মোর, হাসপাতাল সড়ক ও নতুন বাজার চৌরাস্তা মোর এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস বিক্রিতে খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদেও নিকট থেকে অতিরিক্তি টাকা আদায় করছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের ১২ কেজি সিলিন্ডারের এখনো ক্রেতাদের নিকট ১৭শ’ ৫০টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত রাখা হচ্ছে ২শ’২২ টাকা। ১২ কেজির টোটাল গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে ১হাজার ৮শ’ টাকায়। এই গ্যাসে বেশী রাখা হচ্ছে ২শ’ ৭২ টাকা। ১২ ও ১৫ কেজির যমুনা, আই, সেনা, ওরিয়ন, বিএম সকল সিলিন্ডারেই সরকার নির্দারিত দামের চেয়ে ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা বেশী নেওয়া হচ্ছে। তবে সব চেয়ে বেশী নেওয়া হচ্ছে টোটাল ১৫ কেজিতে। এই সিলিন্ডারে সরকারী দামের চেয়ে সাড়ে ৪শ’ টাকা বেশী নেওয়া হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে গিয়ে আমরা সেই সুবিধা পাচ্ছিনা। অনেক বিক্রেতা পরিবহন খরচ, সরবরাহ সংকট কিংবা কোম্পানির নির্ধারিত মূল্য বেশি এমন নানা অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। লাইলী নামের এক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, আমি ১৫ কেজি টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়েছি। আমার নিকট থেকে ২হাজার ৪শ’ টাকা রাখা হয়েছে।
আমেনা এবং আলী হোসেন নামে দুজন ক্রেতা অভিযোগ করে  বলেন, ১২ কেজির বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়েছি। দোকানদার দাম রেখেছে ১হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা।
আমতলী নতুন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. কনু মিয়া বলেন, ডিলাররা দাম না কমানোর ফলে আমাদেও বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বটতলা এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা কেনা দাম থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করি।
বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলার মো. মহিউদ্দিন বলেন, কোম্পানী থেকে এখানো দাম কমায়নি। আমরা পাইকারী কিনে হার অনুযায়ী খুচরা বিক্রেতাদের নিকট বিক্রি করি।
টোলাল গ্যাসের ডিলার মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্স এর মালিক মীর মো. ইব্রাহিম বলেন, কোম্পানি এখনো দাম কমায়নি। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের সুবিধা আমরা পাচ্ছি না।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, যে সব ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যেও চেয়ে গ্যাসের দাম বেশী নিবে তাদেও বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:২২:১৭   ৮ বার পঠিত  |