ঢাকা    সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কাউখালীতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

কাউখালীতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড


কাউখালী ( পিরোজপুর ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬


কাউখালীতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

পিরোজপুর: কাউখালীতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে দরজা খুলে বাইরে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পান একই পরিবারের চার সদস্য। তবে তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে গড়া ঘর, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সবকিছু আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে স্বজনের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটি।
রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলার বদরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মালামাল এবং প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত যুবক মুরাদ হোসেন রাঢ়ী জানান, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হতে দেখে তার মা সুমি বেগম চাচা নাসির উদ্দিনকে বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে নাসির উদ্দিন এসে সিলিন্ডারটি পরীক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে লিক হওয়া গ্যাসে পুরো ঘর ভরে যায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই সিলিন্ডার চালু করে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, এ সময় ঘরে থাকা তিনি, তার মা সুমি বেগম, ভাগ্নি ওজিহা এবং চাচা নাসির উদ্দিন প্রাণভয়ে দরজা খুলে বাইরে ঝাঁপ দেন। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আগুন পুরো ঘর গ্রাস করে। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জীবনের সব সম্বল।
স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে কাউখালী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে বাড়ির সঙ্গে সংযোগকারী প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সাজিবুল ইসলাম বলেন,”সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হই। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে হাতে এবং ভ্যানগাড়িতে করে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই পুরো বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়।”
ক্ষতিগ্রস্ত মুরাদ হোসেন জানান, কয়েক মাস আগেই তার বাবা ফারুক হোসেন মারা গেছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়েছে। এখন নিজের কোনো বসতঘর না থাকায় চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সেখানে একসঙ্গে এতজনের বসবাস অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পরিবারের দাবি, পরনের কাপড় ছাড়া প্রায় সবকিছুই আগুনে পুড়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য শুকনো খাবার, চাল ও কম্বল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,”অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, চাল ও কম্বল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে থাকা হবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি।

এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে পরিবারটি দ্রুত সরকারি সহায়তা পেতে পারে।
সব হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি সরকারের কাছে জরুরি পুনর্বাসন, একটি নতুন বসতঘর নির্মাণে সহায়তা এবং আর্থিক অনুদানের আবেদন জানিয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৯:৩৪   ৬ বার পঠিত  |