![]()
![]()
পাবনা: চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামে ভেজাল দুধ কারবারি আজিজুল হকের ছেলে কৃষক দলের বিলচলন ইউনিয়ন শাখার বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিন আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এই খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
জানা গেছে, ভেজাল দুধের ব্যবসায়ী মমিনের তথ্য পাবনার গোয়েন্দা সংস্থাকে দেওয়ার কারণে চলতি বছরের ৯ জুন এলাকার চিহ্নিত ভেজাল দুধ কারবারি মমিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক গ্রামবাসীর উপরে সন্ত্রাসী হামলা এবং হামলার ঘটনায় হাশেম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়।
এই হত্যাকা-ের পর এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে। পরবর্তীতে নিহত হাশেম প্রামাণিকের পরিবার, গ্রামবাসী ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে মানববন্ধনের মাধ্যমে মমিনের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাশেম হত্যা মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই মো. আবুল কালাম জানান।
ভেজাল দুধ কারবারী আব্দুল মমিন ও তার সহযোগীদের হামলায় নিহত আবুল হাশেমের হত্যাকারীদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সাথে ভেজাল দুধ কারবারী প্রতিষ্ঠান দুগ্ধ সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্র “মমিন ডেইরী” বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।
চলতি বছরের মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া বাজারে স্লুইস গেট সড়কে এলাকাবাসী ও সুশিল সমাজের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার ও এলাকার শিশু ও নারী-পুরুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, মৃত আবুল হাশেমের স্ত্রী জহুরা খাতুন, ছেলে সজীব হোসেন, সিদ্দিকুর রহমান, মেয়ে তৈয়বা, এলাকাবাসীদের মধ্যে, জাহাঙ্গীর সরকার, রাজু আহম্মেদ, রবি আলী মোল্লা, সাইদুল প্রামানিক, সাইজুদ্দিন প্রামানিক, নাঈম খলিফা প্রমুখ।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিলচলন ইউনিয়ন কৃষকদলের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন পুলিশকে ম্যানেজ করে কেমিক্যাল দিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী ও এনএসআইয়ের যৌথ অভিযানে পর পর দুই বার অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি সরঞ্জাম, বিপুল পরিশাণ ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। প্রথমবার জরিমানা দিয়ে পার পেলেও পরের বার আব্দুল মমিনের নামে মামলা হয়। সেই মামলায় এরসাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মমিনের বাবাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। এরপর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় মমিন।
সম্প্রতি প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে মমিন ও তার সহযোগীদের হামলায় আবুল হাশেমসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এরপর চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর আবুল হাশেম মারা যান। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে শাহীন নামের একজনকে আটক করে।
এ ব্যাপারে হাশেম হত্যা মামলার তদন্তকারী অফিসার থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মো. আবুল কালাম জানান, মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় মমিনসহ অন্যান্য আসামিরা। সম্প্রতি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত মমিন এবং মতিনকে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে বিজ্ঞ আদালত।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১০:৫৮ ৩ বার পঠিত | ● আত্মসমর্পন ● আদালত ● চাটমোহর