![]()
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং মরক্কোর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢল নেমেছে। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, সমুদ্রপথে সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানো অভিবাসীদের আর ফেরত পাঠানো হবে না। এই তথ্য অনেককে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করে।
১৬ বছর বয়সী মরক্কোর কিশোর আয়ুব এল আবইয়াদ রয়টার্সকে বলেন, ইনস্টাগ্রামে অভিবাসীদের সফলভাবে সীমান্ত পার হওয়ার ভিডিও দেখেই তিনি ও তার চাচাতো ভাই সেউতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তারা সীমান্তে পৌঁছান।
তিনি বলেন, ‘অভিবাসনের উদ্দেশ্য হলো জীবনের উন্নতি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করব এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখব।’
দারিদ্র্য ও বেকারত্বের প্রভাব
মরক্কোয় দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নিম্নমানের সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রতি চারজন তরুণের একজন শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন।
লকলিয়া শহরের বাসিন্দা ও রেস্তোরাঁকর্মী দুনিয়া খেররাদি বলেন, ‘আমি ভালো ভবিষ্যতের খোঁজে এসেছি। আমার বেতন দিয়ে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করা সম্ভব নয়, আমার একটি মেয়েও আছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের এই সময়ে সমুদ্র শান্ত থাকায় সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করাও তুলনামূলক সহজ হয়ে ওঠে।
স্পেনের কঠোর অবস্থান
অভিবাসীদের ঢলের পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যই এ সংকটের মূল কারণ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এলেও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর সুযোগ এখনো রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, সমুদ্রসীমা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সাগরে বিশেষ ভাসমান বয়া স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন আরও কঠোর করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
মরক্কোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, মরক্কো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ইচ্ছাকৃতভাবে শিথিলতা দেখিয়েছে কি না। ২০২১ সালেও পশ্চিম সাহারা ইস্যুকে কেন্দ্র করে একই ধরনের অভিবাসী ঢলের সময় মরক্কোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ তৈরির অভিযোগ উঠেছিল।
তবে মরক্কোর পার্লামেন্টের ইউরোপীয় ইউনিয়নবিষয়ক কমিটির প্রধান লাহসেন হাদ্দাদ এ অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্যই এ ঘটনার প্রধান কারণ।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, মরক্কোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘চমৎকার’ রয়েছে এবং আলজেরিয়ার সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কের কারণে তাতে কোনো প্রভাব পড়েনি।
বাংলাদেশ সময়: ২১:২৬:৫৫ ৮ বার পঠিত | ● সীমান্ত ● স্পেন