ঢাকা    রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » নির্বাচন » রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থীর যোগ্যতা কী, কারা ভোটার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থীর যোগ্যতা কী, কারা ভোটার


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থীর যোগ্যতা কী, কারা ভোটার

আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে (এমপি) প্রস্তাবক এবং একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হিসেবে থাকতে হবে।

এ নির্বাচনে ভোটারও হবেন সংসদ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইসি সচিব আখতার আহমেদ তফসিল ঘোষণা করেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদের কাছে এমপিদের তালিকা চেয়েছে ইসি

আইন অনুযায়ী, অন্যান্য নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার যে দায়িত্ব থাকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর যোগ্যতা

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাও থাকতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

আরপিও অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক ফেরারি বা পলাতক ঘোষিত ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রজাতন্ত্র বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও তিনি প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন।

কোনো কোম্পানির পরিচালক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ বা তার কোনো কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এ ছাড়া কৃষিকাজের জন্য নেওয়া ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ছাড়া অন্য যেকোনো ব্যাংকঋণ বা তার কিস্তি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে পরিশোধ না করলেও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতা সৃষ্টি হবে।

সরকারি টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা অন্য কোনো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে পরিশোধ না করলেও প্রার্থী হওয়া যাবে না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হলফনামা এবং সর্বশেষ করবর্ষের আয়কর রিটার্নের অনুলিপি দাখিল করতে হবে।

আরও পড়ুন এনআইডির বারকোড মোবাইলে রিড করার অ্যাপ আনার কথা ভাবছে ইসি

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর ৯(১) ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (Formal Charge) দাখিল হলে একই আইনের ২০সি(১)(এ) ধারা অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

নির্বাচন পদ্ধতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচনি কর্তা সভাপতিত্ব করবেন।

সংসদের অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে কমিশন ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সূচি নির্ধারণ করবে। আর সংসদ অধিবেশনে না থাকলে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হবে।

মনোনয়নপত্র দাখিল

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাব এবং একজন সংসদ সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর সম্মতিসূচক লিখিত ঘোষণাও মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

এ নির্বাচনে ভোটার হবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। এ জন্য নির্বাচন কমিশন একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।

আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রত্যাহারের পর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা উভয়ই প্রকাশ্যে হবে। সর্বোচ্চ ভোট একাধিক প্রার্থী পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করবেন নির্বাচন কমিশনার। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

তবে বৈধ প্রার্থী একজন থাকলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে স্পিকার তা গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সেবা উদ্বোধন

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ওই বছরের ২৪ এপ্রিল শপথ নেন। সে সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল।

বাংলাদেশ সময়: ১:২৭:২০   ৭ বার পঠিত  |