ঢাকা    রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » ফিচার » ইউরোপের নদীতে পানি কমতেই জেগে উঠছে যুদ্ধের স্মৃতি

ইউরোপের নদীতে পানি কমতেই জেগে উঠছে যুদ্ধের স্মৃতি


নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬


ইউরোপের নদীতে পানি কমতেই জেগে উঠছে যুদ্ধের স্মৃতি

তীব্র গরম ও খরায় হঠাৎ করেই ইউরোপের বড় নদীগুলোতে পানির স্তর নেমে গেছে রেকর্ড পর্যায়ে। এতে ইউরোপের ঐতিহাসিক দানিউব ও রাইন নদীর তলদেশ থেকে একের পর এক পুরোনো নিদর্শন ভেসে উঠছে।

কোথাও মিলেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান সেনাদের দেহাবশেষ ও মাইন, কোথাও দেখা মিলেছে ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজ। এমনকি বুলগেরিয়ায় দানিউবের তলদেশ থেকে পাওয়া গেছে প্রাগৈতিহাসিক ম্যামথের হাড়।

ইউরোপের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের কাছে দানিউব নদী থেকে দুই জার্মান সেনার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে পাওয়া গেছে একটি মোটরসাইকেল ও দুটি পরিচয়পত্রের লোহার চিহ্ন।

সেখানে একটি টেলিমাইনও পাওয়া যায়।

উদ্ধারকারীরা জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ওই মাইনটি ছিল ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র।

এটি উদ্ধারে ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞদেরও পাঠানো হয়। নদীর পানি কমে যাওয়ায় ডুবে যাওয়া আরও অনেক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ সামনে আসতে পারে। সেসব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত মানুষের দেহাবশেষও থাকতে পারে।

বুলগেরিয়ায় মিলল ম্যামথের হাড়
দানিউবের পানি কমে যাওয়ার ঘটনা শুধু হাঙ্গেরিতেই নয়, পূর্ব ইউরোপের আরেক দেশ বুলগেরিয়াতেও নদীটির গতিপথে পানি কমতে দেখা গেছে। পানি কমে যাওয়ায় দেশটির রিয়াখোভো গ্রামের কাছে নদীর তলদেশে অস্বাভাবিক কিছু হাড় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বুলগেরিয়ার জাতীয় টেলিভিশনকে (বিএনটি) বিষয়টি জানানো হয়। রুসে শহরের আঞ্চলিক ইতিহাস জাদুঘরের বিশেষজ্ঞরা হাড়গুলো পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছেন, এগুলো ম্যামথের।

সার্বিয়ায় ভেসে উঠল নাৎসি নৌবহরের ধ্বংসাবশেষ
সার্বিয়ায় দানিউবের পানি কমে যাওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জার্মানির নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষও দেখা গেছে। দেশটির গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রাহোভো নদীবন্দরের কাছে এসব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে নদীর পানি কমলে প্রায় প্রতিবছরই ওই এলাকায় ডুবে থাকা জাহাজগুলোর কিছু অংশ দেখা যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ওই এলাকায় জার্মান নৌবহরের বড় একটি অংশ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন জার্মান বাহিনী পিছু হটছিল। তাদের পিছু নিয়েছিল সোভিয়েত দানিউব নৌবহর। রুশ বাহিনীকে ঠেকাতে জার্মান বাহিনী দানিউব নদীর ওই অংশে প্রায় ২০০টি জলযান ডুবিয়ে দিয়েছিল। ফলে নদীপথে রুশদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।

স্লোভাকিয়ায় মিলল যুদ্ধের মাইন
স্লোভাকিয়াতেও দানিউবের পানি কমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি নৌমাইন নদীর তলদেশ থেকে উঠে আসে। দেশটির কোমারনো জেলার ভির্ট এলাকার কাছে মাইনটি পাওয়া যায়। নিরাপত্তার কারণে ওই নদীপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিসলাভার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা হয়েছিল। ধ্বংস হয়েছিল অ্যাপোলো তেল শোধনাগার ও দানিউবের কাছের বন্দর এলাকা। সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন বন্ধ করতে তখন আকাশ থেকে দানিউব নদীতে নৌমাইন ফেলা হয়েছিল।

জার্মানির রাইনে ভেসে উঠল ১৯ শতকের জাহাজ
শুধু দানিউব নয়, রাইন নদীতেও পানির স্তর অস্বাভাবিক কমে গেছে। এতে রাইনের জার্মান অংশে নদীর তলদেশ থেকে একটি পুরোনো কাঠের পণ্যবাহী জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। জাহাজটির নাম ছিল ‘ডি হুপ’। এটি ১৯ শতকের শেষ দিকে রাইন নদীতে চলাচল করত। ১৮৯৫ সালে জাহাজটিতে ডিনামাইট তোলার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ১৬ জন নিহত হন। বিস্ফোরণে জাহাজটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

পরিবেশবিদরা জানান, তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী খরায় ইউরোপের নদীগুলোতে পানির স্তর কমে যাওয়ায় এখন অতীতের এসব নিদর্শন আবার সামনে আসছে। তবে একই সঙ্গে নদীর পানি কমে যাওয়া নৌপরিবহন, কৃষি ও পরিবেশের জন্য নতুন উদ্বেগও তৈরি করছে। পুরো ইউরোপ এখনই পরিবেশ রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ইউরোপে পানির সংকটও দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১:৩৩:৩০   ৭ বার পঠিত  |