ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » হাতিয়ায় আগুনে ৭ ঘরসহ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

হাতিয়ায় আগুনে ৭ ঘরসহ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই


হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


হাতিয়ায় আগুনে ৭ ঘরসহ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই

নোয়াখালী: দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হোটেল, গুদামঘর ও বসতঘরসহ সাতটি ঘর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাগুরিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের সূত্রপাতের পর মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাগুরিয়া বাজারের নকশিবাংলা রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
অগ্নিকাণ্ডে নকশিবাংলা রেস্টুরেন্ট, বাজারের ব্যবসায়ী প্রিয়তোষ বাবুর তিনটি গুদামঘর, বহুমুখী ও সাখাওয়াতের গুদামঘর এবং ফখরুলের বসতঘর পুড়ে যায়। এসব ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল, ব্যবসায়িক পণ্য, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মালিক স্থানীয় ফখরুল ইসলাম ওরফে গাছ ব্যবসায়ী ফখরুল।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল কাদের ও আব্দুল আজিজ সহ স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা নিজেদের মতো করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ঘর থেকে মালামাল বের করার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।
পরে খবর পেয়ে হাতিয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আশপাশের আরও ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।

হাতিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তদন্তের পর আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সরেজমিনে দেখেন।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘সাগুরিয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আগামীকালের মধ্যে বাজারের পাশের ময়লার স্তূপ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত প্রবেশের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৯:১১   ২৬ বার পঠিত  |