ঢাকা    সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » পটুয়াখালীতে আইনজীবী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

পটুয়াখালীতে আইনজীবী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


পটুয়াখালীতে আইনজীবী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

পটুয়াখালী: মির্জাগঞ্জে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে মোঃ জাকির হোসেন ফরাজী (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার,১৫ আগস্ট দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, গত ৯ আগস্ট বিকেলে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। এতে আইনজীবী মোঃ সামিউল আলম ও তাঁর স্ত্রী মোছাঃ শাহনাজ পারভীন (৩৫) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের প্রেস রিলিজে বলা হয়, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। একটি মাদক মামলায় তিনি আইনজীবী হিসেবে মোঃ সামিউল আলমকে নিয়োগ করেন। ওই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ৯ জুন ধার্য তারিখে তাঁর পক্ষে আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পুলিশের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানতে পেরে আইনজীবী সামিউল আলমের ওপর ক্ষুব্ধ হন জাকির। ঘটনার দিন সামিউল আলম ছৈলাবুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে জাকির অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে যান। পরে তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সামিউল আলমকে কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে তাঁর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয় বলে পুলিশের প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত দুজনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রযুক্তির সহায়তায় জাকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় বলে দাবি করেছে। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর জাকির এক জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। এতে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগে।

পরে শনিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। হামলার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না কিংবা হামলাকারীদের কেউ সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামির সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয় এবং অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদেরও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পুলিশের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৪:০২   ৯ বার পঠিত  |