![]()
সাহিত্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন গুণীকে ‘হুমায়ুন কবির সাহিত্য পুরস্কার-২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন–গবেষণায় ড. মোহাম্মদ হাননান, কবিতায় আজাদুর রহমান ও কথাসাহিত্যে কিযী তাহনিন। শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
ভারতীয় বাঙালি শিক্ষাবিদ, কবি, লেখক, দার্শনিক ও রাজনীতিক হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালে ফরিদপুরের কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সাহিত্য পরিষদের আমন্ত্রণে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ফরিদপুরে আসেন। গত বছর থেকে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবির সাহিত্য পুরস্কার চালু হয়।
শুক্রবার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান রাখা ও ফরিদপুরের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুরস্কার দেওয়া ব্যক্তিদের কর্মজীবন নিয়ে তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়।
পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় কবি আজাদুর রহমান বলেন, ‘পুরস্কারের ভার বহন করতে পারব কিনা সেটাতেই আমি ভয় পাই। কবিতার মধ্যে ঢুকতে গিয়ে মনে হলো কোনো কিছুই আসলে তেমন কিছু না। জীবন একটা ষড়যন্ত্র। প্রথমে তিলে তিলে গড়ে তুলবে আবার শেষ করবে। প্রকৃতির মধ্যে একটা রিদম আছে। আপনাকে সেটি নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন বলেন, ‘এই পুরস্কার গত বছর থেকে দেওয়া শুরু হয়েছে। এ বছর তিনজন পেয়েছেন।’
কথাসাহিত্যিক ও জীবনানন্দ গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, ‘হুমায়ুন কবিরকে আমরা চিনি একটি বিশেষ কারণে। তিনি জীবনানন্দ দাশকে একটি চাকরি দেননি। জীবনানন্দ দাশ যেই ভাষায় তাঁকে পরপর তিনটা চিঠি লিখেছেন, সেই ভাষায় লিখলে একটা অধ্যাপনার চাকরি নিশ্চিতভাবে দেওয়া যায়। হুমায়ুন কবিরের পক্ষে এমন ১০০টা চাকরি দেওয়া সম্ভব ছিল বলে মনে করি। হুমায়ুন কবিরের রচনা-কর্ম পড়ার দরকার রয়েছে।’
বহুমাত্রিক লেখক ও অনুবাদক ড. আন্দালিব রাশদী বলেন, ‘হুমায়ুন কবির যদি বাংলাদেশ আসতেন, তাহলে বাঙালির যেই চরিত্র, তিনি দাঁড়াতে পারতেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। তিনি আসেননি, ভালোই করেছেন।’
ফরিদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, ‘সাহিত্য এমন একটা বিষয় যা ভালো লাগার। হুমায়ুন কবির বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর সৃষ্টকর্ম যদি ছড়িয়ে দিতে পারি, তবেই আমরা তাঁর চর্চা করতে পারি। ফরিদপুরে জসীম উদ্দীন বেশ পরিচিত। কিন্তু জসীম উদ্দীনকে নিয়ে সেই ধরনের গবেষণা বা চর্চা করা হয় না। তাদের কাজের চর্চার মাধ্যমেই আমরা তাদের স্মরণ করতে পারি।’
ভারতের শিক্ষা ক্ষেত্রে হুমায়ুন কবিরের অবদানের কথা তুলে ধরেন ব্যাঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফাতিমা জাহান। তিনি বলেন, ‘ভারত যখন স্বাধীন হয় তখন শিক্ষার হার খুবই কম ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষানীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন হুমায়ুন কবির। সেই শিক্ষানীতির কারণে আজকে ভারতের শিক্ষার উন্নতি হয়েছে। হুমায়ুন কবির দুইবার শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তাঁর জন্ম ফরিদপুরে; এটি গর্বের বিষয়। তবে তাঁর সম্পর্কে ভারতের শিক্ষার্থীরা জানে না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘হুমায়ুন কবির অক্সফোর্ড থেকে তিনটি বিষয়ে স্নাতক করেছেন; যা ভারতবর্ষে হাতেগোনা কয়েকজন। তারপর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। শিক্ষার ওপর তাঁর প্রচুর প্রবন্ধ রয়েছে।’
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মৃধা রেজাউলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. মোহাম্মদ আলী খান, সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম, তাপস কুমার দত্তসহ আরও অনেকে। বক্তব্য শেষে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন অতিথিরা।
বাংলাদেশ সময়: ০:১২:২২ ৬ বার পঠিত |