![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগরে জহিরুল হক খসরু মাস্টার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট শিক্ষা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে মরহুম জহিরুল হক খসরু মাস্টার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। প্রয়াত জহিরুল হক খসরু মাস্টারের স্মৃতিকে ধারণ করে গড়ে ওঠা এই ট্রাস্ট বিভিন্ন সময় মানবিক সহায়তা ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে।
এই ধারাবাহিকতায় জহিরুল হক খসরু মাস্টার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উদ্যোগে ইচ্ছাময় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জনকারী এবং সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আজ রোববার (৬ /৯) ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছার বেগম। উপজেলায় এ বছর সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকারী শারমিন সুলতানা চৈতী,দ্বিতীয় স্থান অধিকারী জান্নাতুল মাওয়া, এবং যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকারী কাজী তাসনিয়া ইবনান নিধি ও মুনতাহা মেহজাবিন। তাদের হাতে সম্মাননা সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে তুলে দেয়া হয়।
সভাপতিত্ব করেন জহিরুল হক খসরু মাস্টার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সভাপতি আশ্রাফুল হক।
বক্তব্য রাখেন, ট্রাস্টের প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ রিফাতুল হক,প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ হোসেন শান্তি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম লিটন, প্রভাষক জাকির হোসেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ মো. ইয়াছিনুল হক, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক মো. মিন্টু মিয়া প্রমূখ।
ট্রাস্টটির মূল কার্যক্রম ‘সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে যেসব মানুষ আর্থিক বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন, তাদের সহযোগিতায় ট্রাস্টটি ভূমিকা রাখছে।
অসহায় মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা
সাম্প্রতিক সময়েও ২০২৬ সালের আগস্টে উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের হুরুয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী দীপঙ্কর দেবনাথকে একটি নতুন হুইলচেয়ার প্রদান করে ট্রাস্ট। ট্রাস্টের এই মানবিক কর্মকাণ্ড একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত।
প্রতিবন্ধী একজন মানুষের চলাচলের সক্ষমতা বাড়াতে একটি হুইলচেয়ার,উৎসাহ যোগাতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান হয়তো ছোট একটি সহায়তা—কিন্তু সেই সহায়তাই তার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ ট্রাস্টটির মানবিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
একজন মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, একজন শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দেওয়া কিংবা একজন প্রতিভাবান তরুণকে তার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করা—এসব ছোট ছোট উদ্যোগই একটি সমাজকে মানবিক করে তোলে।
বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন,মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ক্রীড়া ও সামাজিক কল্যাণের মধ্য দিয়ে ট্রাস্টটি ভবিষ্যতে তার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং যুবসমাজকে শিক্ষা ও ক্রীড়ামুখী করতে আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ নিবে এই ট্রাস্ট।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ০:০২:৩২ ১১ বার পঠিত | ● নবীনগর ● শিক্ষার্থী ● সংর্বধনা