ঢাকা    বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » নবীনগর কৃষ্ণনগর মাদ্রাসার ছাত্রকে পৈশাচিক নির্যাতন, শিক্ষক আটক

নবীনগর কৃষ্ণনগর মাদ্রাসার ছাত্রকে পৈশাচিক নির্যাতন, শিক্ষক আটক


নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নবীনগর কৃষ্ণনগর মাদ্রাসার ছাত্রকে পৈশাচিক নির্যাতন, শিক্ষক আটকব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগরে কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার আব্দুল্লাহ (১১)নামে এক শিশু ছাত্রের উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসারই নাজিমে তালিমাত (শিক্ষা সচিব) মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিবকে এলাকাবাসী আটক করেছে নবীনগর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে ।

বুধবার (০৯/০৯) এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রকে স্থানীয় একটি প্রাভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একটানা চারদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায়, ওই ছাত্রকে বাড়ি থেকে ধরে এনে মাদ্রাসায় ভয়ানকভাবে বেত্রাঘাত করেন ওই মাদ্রাসারই নাজিমে তালিমাত (শিক্ষা সচিব) মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসি রমজান আলীর (রুমান মিয়ার) ছেলে আব্দুল্লাহ কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার ” হাফেজ সেকশনের ” পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
ওই মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম সম্পর্কে আবদুল্লাহ খালু হন।সেই সুবাদে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় ক্লাশ শেষে বাড়ি চলে যায়। কিন্তু এরপর গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত গত চারদিন ধরে সে মাদ্রাসায় আর আসেনি।
বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত নাজিমে তালিমাত (শিক্ষা সচিব) মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার সকালে ওই ছাত্রের বাড়িতে গিয়ে তাকে মাদ্রাসায় ধরে নিয়ে আসেন। এরপরই ওই ছাত্রের উপর চালানো হয় বর্বোরচিত শারীরিক নির্যাতন।

এই ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী মাদ্রাসায় ছুটে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচানোর জন্য ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করলেও এলাকাবাসী শিক্ষককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইসময় ওই ছাত্রকে প্রচন্ডভাবে বেত্রাঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। এ সময় ছাত্রটি অজ্ঞান হয়ে গেলে রক্তাক্ত আবদুল্লাকে কৃষ্ণনগর বাজারে অবস্থিত পপুলার প্রাইভেট ক্লিনিকে এনে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ওই মাদ্রাসায় ভীড় জমিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

ছাত্রের মা জানান, এই ঘটনার জন্য মামলায় যাবেন না, বরং এলাকাবাসীর কাছে ঘটনার সমাধান চান তিনি।এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে এ ঘটনার পর এলাকার অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হলে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বলেন, আব্দুল্লাহকে বাড়ি থেকে ধরে আনার কারণে রাগান্বিত হয়ে তাকে নির্যাতন করেছি। শাসনটা অতিরিক্ত হয়ে গেছে, আমি আমার ভুল স্বীকার করছি।
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন,’আমি এখন জেলা শহরে একটি কাজে এসেছি।এরকম ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবেনা। আমি মাদ্রাসা কমিটিকে এ নিয়ে দ্রুত বসতে বলেছি। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’

মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন,আমি খবর পেয়ে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসে আহত ছাত্রকে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তিনি আরও জানান, আব্দুল্লাহ অত্যন্ত ভালো ছেলে এবং এই ধরনের জঘন্য পৈশাচিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।মাদ্রাসার ছাত্রকে শিক্ষক যে ভাবে নির্যাতন করেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই বিষয়ে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের সাথে মিটিং করে সঠিক বিচার করা হবে।

নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন,খবর পেয়ে আমরা পুলিশ পাঠাই। জনতার অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে শিক্ষক ইব্রাহিমকে উদ্ধার করা থানা নিয়ে আসি। ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পত্র পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩০:১৭   ২ বার পঠিত  |