ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে চরফ্যাসনের শিক্ষকরা

অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে চরফ্যাসনের শিক্ষকরা


বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে চরফ্যাশনের শিক্ষকরা

ভোলা: চরফ্যাসন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মনগড়া ও মিথ্যা’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চরফ্যাসন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শিক্ষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোরশেদ আলম। এ সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা ও সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, বাহারুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও ফিরোজ নান্টুসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও ফাইল আটকে হয়রানির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক ও কাল্পনিক বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের দাবি, একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এবং দপ্তর থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান যোগদানের পর থেকে চরফ্যাশনের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করা এবং নিয়মিত মনিটরিং করে আসছেন। এতে অনিয়মকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা আরও দাবি করেন, সংবাদে বিভিন্ন বরাদ্দের অনিয়ম ও শিক্ষকদের হয়রানির যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোও সত্য নয়। শিক্ষক সমাজের কেউ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চলমান পদোন্নতি ও বদলির কাজে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে একটি মহল শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিনা টাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

এ ছাড়া শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। ২০২২ সালেও চাঁদাবাজির অভিযোগের পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তৎকালীন শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে ৮৫ নম্বর মধ্য উত্তর মাদ্রাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই, ৬৯ নম্বর মধ্য উত্তর ফ্যাশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই এবং ৫৩ নম্বর গফুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম বাবুলের নাম উল্লেখ করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে পদোন্নতির সময় ভালো বিদ্যালয়ে পদায়নের কথা বলে অর্থ আদায়, বদলির নামে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া, ‘স্লিপ’ ও ‘নিড বেইজ’-এর কথা বলে অর্থ আদায়, ইউআরসির প্রশিক্ষণে প্রতি ব্যাচে টাকা নেওয়া, ক্ষুদ্র মেরামতের কাজের নামে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে তদন্তের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগের কথা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সংবাদ প্রত্যাহার এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে অন্যথায় শিক্ষক সমাজ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

৬৯ নম্বর মধ্য উত্তর ফ্যাশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) আবদুল হাই বলেন, ‘ওনাদের সঙ্গে আমার কমিটি নিয়ে বিরোধ আছে, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৭:৪৯   ৫ বার পঠিত  |