ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রচ্ছদ » রাজশাহী » জহুরুল কামাল কলেজের প্রায় কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগে আদালতে মামলা

জহুরুল কামাল কলেজের প্রায় কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগে আদালতে মামলা


এম.এ আলিম রিপন,সুজানগর ( পাবনা )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জহুরুল কামাল কলেজের প্রায় কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগে আদালতে মামলা

পাবনা: সুজানগরের দুলাই সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল মজিদের স্বাক্ষর জাল করে চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় এক কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে কলেজটির হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর গিয়াস কামাল তপনের বিরুদ্ধে।

তবে গিয়াস কামাল তপনের দাবি, স্বাক্ষর জাল করা হয়নি; অধ্যক্ষের সম্মতিতে ও তাঁর স্বাক্ষরেই তিনি বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।

ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলেজ প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ কলেজের প্রায় এক কোটি টাকা তাঁর স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময়ে উত্তোলনের অভিযোগে গিয়াস কামাল তপনের বিরুদ্ধে পাবনা আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় দুলাই জনতা ব্যাংক শাখা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও গাফিলতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কলেজের প্রশাসনিক সূত্র জানায়, গত ১০-০৯-২০২৬ তারিখে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ দুলাই জনতা ব্যাংক শাখায় কলেজের হিসাব থেকে ২২ হাজার ৫০০ ও ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা উত্তোলনের জন্য পৃথক দুটি চেকে স্বাক্ষর করে গিয়াস কামাল তপনের কাছে দেন। পরে একই দিন ব্যাংক থেকে অধ্যক্ষের মোবাইল নম্বরে একটি চেকের মাধ্যমে ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের বার্তা আসে।

মোবাইলে বার্তা পেয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে অধ্যক্ষ ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত চেকের মাধ্যমে গিয়াস কামাল তপন টাকা উত্তোলন করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্তকে চেক লেখার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য শাখায় নিয়োজিত করা হয়।

অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ বলেন, “আমি গত ১০ তারিখে ৬২ হাজার ৪০০ টাকা উত্তোলনের জন্য পৃথক দুটি চেক দিয়েছিলাম। কিন্তু বিকেলে আমার মোবাইলে ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের বার্তা আসে। বিষয়টি সন্দেহ হলে আমি ব্যাংক ম্যানেজারকে ফোন দিই। তিনি আমাকে তিনটি চেক জমা দেওয়ার কথা বলেন। পরে ব্যাংকে গিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের চেকে যে স্বাক্ষর রয়েছে, তার সঙ্গে আমার স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই জানালে ব্যাংকের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।”

তিনি আরও বলেন, “পরে আমি কলেজে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। কয়েকজন শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি পাবনা আদালতে মামলা দায়ের করেছি।”

এর আগেও কলেজের বিভিন্ন হিসাব থেকে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে প্রায় কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুলাই জনতা ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হকের কাছে চেকে অধ্যক্ষের স্বাক্ষরের মিল না থাকা সত্ত্বেও টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, অধ্যক্ষের একক স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী চেক বই অধ্যক্ষের কাছে থাকার কথা এবং প্রতি মাসে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী অধ্যক্ষ মনোনীত ব্যক্তির পাওয়ার কথা। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী এ ঘটনায় অধ্যক্ষ, কলেজের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর বা ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকলে তদন্তপূর্বক তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৫:৫২   ১২ বার পঠিত  |