![]()
খুলনা: কয়রা উপজেলায় লোকালয়ে অজগর সাপের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর কয়রা গ্রামের শওকাত ডাক্তারের বাড়ির সামনে একটি অজগর দেখতে পান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপ (সিপিজি) ও ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন। পরে সাপটিকে নিরাপদে সুন্দরবনের ভেতরে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়রার বিভিন্ন লোকালয়ে একাধিকবার অজগর সাপ দেখা গেছে। কখনো বসতবাড়ির আশপাশে, আবার কখনো মুরগির ঘর বা খাবার রাখার স্থানে অজগরের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুন্দরবন ইকো-রিজিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভের প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক তারিক লিটু বলেন, সুন্দরবনে খাদ্যসংকটসহ পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে অজগর খাবারের সন্ধানে লোকালয়ের দিকে চলে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বৈজ্ঞানিক জরিপ করা যেতে পারে। অজগর সাধারণত বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিকারি প্রাণী। বনাঞ্চলে তাদের স্বাভাবিক খাদ্য ও আশ্রয়ের পরিবেশে কোনো পরিবর্তন হলে তারা মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তবে লোকালয়ে অজগর পাওয়ার ঘটনাকে সরাসরি সুন্দরবনের খাদ্যসংকটের ফল হিসেবে চিহ্নিত করতে আরও তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।
সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার নাসির উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করি। পরে সেটিকে নিরাপদে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, লোকালয়ে অজগরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বাড়তে থাকলে মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাণীগুলোরও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, খাদ্যব্যবস্থা ও পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫০:২১ ৯ বার পঠিত | ● অজগর ● কয়রা ● লোকালয়