![]()
খুলনা: পাইকগাছায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা রেকর্ডীয় কৃষি খাস জমিতে সরকারি সাইনবোর্ড টাঙানোয় বিপাকে পড়েছেন প্রায় শতাধিক ভূমিহীন পরিবার। বন্দোবস্তপ্রাপ্ত এসব জমিতে কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ এবং কোথাও কোথাও বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন তারা। হঠাৎ জমিগুলোকে সরকারি ভিপি সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙানোয় বন্দোবস্ত গ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার পাইকগাছা, পারিশামারি, কাঠামারি, কাঁকড়াবুনিয়া ও দক্ষিণ কাঠামারি মৌজার ৫৯ জন বন্দোবস্ত গ্রহীতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসব বন্দোবস্তকৃত জমিতে সরকারি ভিপি সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখলে থাকা ভূমিহীন পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ভিলেজ পাইকগাছাসহ আশপাশের গ্রামের ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে পারিশামারি, কাঠামারি, কাঁকড়াবুনিয়াসহ পাঁচটি মৌজায় প্রায় ২০০ একর খাস জমি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। এরপর থেকে বন্দোবস্ত গ্রহীতারা এসব জমিতে কৃষিকাজ, মৎস্য চাষ এবং বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগী বন্দোবস্ত গ্রহীতা কৃষক মো. শফি গাজী, আবদুল মজিদ হাজরা, রফিকুল ইসলাম, মিজানুর মালী ও হালিমা বিবি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি কেউ ৬ বিঘা, কেউ সাড়ে ৪ বিঘা, আবার কেউ ৩ বিঘা করে বন্দোবস্ত পেয়েছেন। এসব জমির নামজারি, জরিপ রেকর্ড এবং অনলাইনে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে জমিগুলোকে ভিপি সম্পত্তি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙানোয় তারা বিপাকে পড়েছেন।
তাদের দাবি, বন্দোবস্ত দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জমিগুলো ১ নম্বর খাস খতিয়ান, জলমহাল ও সরকারি ভিপি তালিকাভুক্ত ছিল। পরে ১৯৮৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি ভিপি তালিকা থেকে অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে মিস কেসের মাধ্যমে ৯২-এর (ক) ধারায় সম্পত্তিগুলো ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ার পর ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
এ অবস্থায় বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আবেদন গ্রহণের সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সোলাদানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তুষার কান্তি মণ্ডল, আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ সানা, জিএম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট কালিপদ মণ্ডলসহ বন্দোবস্ত গ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র, বন্দোবস্ত দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বীকে নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৩:১১ ১০ বার পঠিত | ● পাইকগাছা ● সরকারি ● সাইনবোর্ড