ঢাকা    শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬


আপনার এলাকার খবর

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রচ্ছদ » বরিশাল » কাউখালীতে খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৮০০ মিটার সড়ক, বিচ্ছিন্নতার শঙ্কায় ৬ গ্রামের মানুষ

কাউখালীতে খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৮০০ মিটার সড়ক, বিচ্ছিন্নতার শঙ্কায় ৬ গ্রামের মানুষ


রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী(পিরোজপুর)
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬


কাউখালীতে খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ৮০০ মিটার সড়ক, বিচ্ছিন্নতার শঙ্কায় ৬ গ্রামের মানুষ

পিরোজপুর: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নে সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে হরিণধারা খেয়াঘাটসংলগ্ন সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালের ভাঙনে সড়কটির বড় একটি অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের শত শত মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার ও খালের পাড়ে টেকসই পাইলিং নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় এলাকাটির যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিণধারা খেয়াঘাটের খালের পাড় থেকে পশ্চিম গোপালপুরের সংযোগ সড়কের সরদার বাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে খালের পানিতে মিশে গেছে। কোথাও সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে ঝুঁকি নিয়েই এসব অংশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে খালের পাড়ের ভাঙন অব্যাহত থাকবে এবং সড়কটির অবশিষ্ট অংশও পানিতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে খালের পাড়ে টেকসই পাইলিং নির্মাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সড়কটি আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। পশ্চিম আমড়াজুড়ি, রোঙ্গাকাঠি, গন্তব, হরিণধারা, গোপালপুর, হোগলা ও বেতকাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, সাধারণ পথচারী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে হরিণধারা খেয়াঘাটে পৌঁছে সন্ধ্যা নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হিরন, রতন, সাথী ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য রনজিত বাউয়ালী বলেন, “এই রাস্তাটি আমাদের পুরো এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথ দিয়ে সহজেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু রাস্তাটি যেভাবে খালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে, তাতে দ্রুত মেরামত ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।”

এ বিষয়ে আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “আমি সবেমাত্র এই ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ইউনিয়নের জরাজীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন রাস্তাঘাটের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছি। হরিণধারা-গোপালপুর সড়কটির সমস্যা খতিয়ে দেখে দ্রুত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৫:৫৫   ৪ বার পঠিত  | ●   ●   ●   ●